জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার আদেশ বাস্তবায়নের বিরোধিতার মাধ্যমে বিএনপি ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে ৩৩টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ নয় মাস আলোচনা করে জুলাই সনদ প্রণয়ন করে। এই সনদকে আইনি ভিত্তি দিতে সবদলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের আয়োজন করে সরকার।
তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নির্বাচিতরা একই সঙ্গে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এজন্য একজন সংসদ সদস্যকে দুটি শপথ গ্রহণ করার কথা; কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর বিএনপি সব ভুলে গেছে। তারা সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি। এখন তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের বিরোধিতা করছে। তারা সংবিধান সংস্কার আদেশ বাতিলের জন্য সংসদে প্রস্তাব করেছে। একই আদেশে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন মেনে সরকার গঠন করলেও গণভোট মানছে না। এর মাধ্যমে বিএনপি পুরো জাতির সঙ্গে প্রতারণা করছে।
রোববার বিকালে বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের নির্বাচনি ইশতেহার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।
জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহর শাখার আমির ও বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাগপার সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. শাহাবুদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বগুড়া অঞ্চলের সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, বগুড়া জেলা আমির আব্দুল হক সরকার প্রমুখ।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, প্রায় পাঁচ কোটি ভোটার গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট প্রত্যাখ্যান করেছে। বিএনপি এই জ্বালা সহ্য করতে না পেরে গণভোট বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে। একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের জন্য যেসব সংস্কার প্রয়োজন বিএনপি সেই সব সংস্কার প্রস্তাব বাতিল করে মূলত ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকেই ধাবিত হচ্ছে। একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দল জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে।
বগুড়ার উপনির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে তিনি বগুড়া প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারি দলের প্রার্থীর লোকেরা জামায়াতের নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার মিলছে না। আমরা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকাকে আপনারা আরেকটি মাগুরা বানানোর অপচেষ্টা চালাবেন না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাশেদ প্রধান বলেন, বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে মুনাফেকি করেছে। সরকার গঠনের মাত্র দেড় মাসে স্বৈরাচার সরকারের যতগুলো গুণাবলী সব অর্জন করেছে বিএনপি। তারা ভোট ছাড়াই স্থানীয় সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের বসিয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি সংস্কার চায় না বলেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বাতিল করছে। ম্যানেজ ভোটের সরকার ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য আওয়ামী লীগের অসমাপ্ত কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন শুরু করেছে।
অনুষ্ঠানে উপনির্বাচনে জামায়াত প্রার্থীর ১৪ দফা ইশতেহার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল আজিজ উন্নয়ন পরিকল্পনা পাঠ করে শোনান।