২০১০ সালে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে হোসে মরিনিয়োর অধীনে খেলেছিলেন আলভারো আরবেলোয়া। সময় বদলেছে, ভূমিকাও পাল্টেছে। সাবেক সেই গুরু-শিষ্য এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছেন প্রতিপক্ষ হিসেবে। মরিনিয়ো নামছেন তার সাবেক ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে, আর রিয়ালের ডাগআউটে কোচ হিসেবে থাকছেন আরবেলোয়া।
এই ম্যাচ মরিনিয়োর জন্য কার্যত ‘করো বা মরো’। হারলেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নিশ্চিত, জিতলেও তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচগুলোর ফলাফলের দিকে। দুইবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ী এই কোচ প্রথম পর্বেই বিদায় নেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। লিগপর্বে ২৯তম স্থানে থাকা বেনফিকার প্লে-অফে ওঠার জন্য রিয়ালকে হারানোর পাশাপাশি প্রয়োজন হবে অনুকূল সমীকরণ।
অন্যদিকে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদও এখনও শীর্ষ আটে জায়গা নিশ্চিত করতে পারেনি। সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে চাইলে সাবেক কোচ মরিনিয়োকে হারানোই আরবেলোয়ার একমাত্র লক্ষ্য।
আজ (বুধবার) রাত ২টায় লিসবনের এস্তাদিও দ্য লুজে মুখোমুখি হবে বেনফিকা ও রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে সাবেক শিষ্যকে নিয়ে আবেগী মন্তব্য করেন মরিনিয়ো। তিনি বলেন,
‘মানুষ হিসেবে আলভারো আমার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে প্রিয় খেলোয়াড়দের একজন। সে আমার অধীনে খেলা সেরা খেলোয়াড় ছিল না, তবে নিঃসন্দেহে সেরা মানুষদের একজন।’
আচমকাভাবেই রিয়ালের কোচের দায়িত্ব পান আরবেলোয়া। জাবি আলোনসো বরখাস্ত হওয়ার পর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এই দায়িত্ব নেন তিনি। এর আগে তিনি রিয়াল মাদ্রিদ ‘বি’ দলের কোচ ছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার সময় ৪৩ বছর বয়সী এই কোচ স্বীকার করেন, মরিনিয়োর প্রভাব তার ওপর গভীর। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, রিয়ালে ‘নতুন মরিনিয়ো’ হওয়ার চেষ্টা করবেন না।
মরিনিয়োর প্রশংসা প্রসঙ্গে আরবেলোয়া বলেন, ‘কোচ হোসে মরিনিয়োর কাছ থেকে এমন কথা শোনা আমার জন্য সম্মানের। তিনি আমার কাছে শুধু কোচ নন, অনেক বেশি কিছু। তার মন্তব্য আমাকে আবেগাপ্লুত করেছে। তিনি আমার বন্ধু।’
পর্তুগিজ লিগে ভালো অবস্থানে থাকলেও ইউরোপের মঞ্চে বেনফিকার পথটা কঠিন হয়ে উঠেছে। ৩৬ দলের লিগপর্বে তারা রয়েছে ২৯ নম্বরে, যেখানে ন্যূনতম প্লে-অফে যেতে হলে থাকতে হবে ২৪-এর ভেতরে। বিপরীতে রিয়াল মাদ্রিদ তৃতীয় স্থানে থাকলেও সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত করতে এখনও কাজ বাকি।
পোর্তো ও ইন্টার মিলানকে নিয়ে দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা মরিনিয়োর জন্য এই ম্যাচ বড় এক চ্যালেঞ্জ। ম্যাচ নিয়ে ‘স্পেশাল ওয়ান’ বলেন, ‘পূর্বাভাস দেওয়া খুব কঠিন। ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো এর অনিশ্চয়তা। কী হবে, তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না।’