পর্তুগালের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ‘কার্নেশন রেভোল্যুশন’ বা ২৫ এপ্রিলের রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের ৫২ বছর পূর্ণ হলো আজ। একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতন্ত্রে ফেরার এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করছে পর্তুগিজ জাতি।
রাজধানী লিসবন থেকে শুরু করে ছোট-বড় প্রতিটি শহর আজ ছেয়ে গেছে লাল কার্নেশন ফুলে।
শনিবার সকাল থেকেই লিসবনের কেন্দ্রস্থল ‘অ্যাভেনিডা দা লিবেরদাদে’ (Avenida da Liberdade)-তে সমবেত হতে থাকেন হাজার হাজার মানুষ। হাতে লাল কার্নেশন ফুল এবং পর্তুগালের জাতীয় পতাকা নিয়ে সব বয়সী মানুষের এই পদযাত্রা গণতন্ত্রের প্রতি তাদের অটুট আস্থার জানান দেয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘২৫ এপ্রিল অমর হোক’ স্লোগানে রাজপথ মুখরিত করে তোলেন।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে পর্তুগিজ পার্লামেন্টে এক বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো ডি সুজা এবং প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে বলেন, আজ থেকে ৫২ বছর আগে আমরা যে স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছিলাম, তা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। গণতন্ত্র মানেই হলো মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সমঅধিকার।
১৯৭৪ সালের এই দিনে কোনো রক্তপাত ছাড়াই সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘ ৪২ বছরের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটেছিল। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণ করে সেনাবাহিনীর বিশেষ কুচকাওয়াজ এবং বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শহরের মোড়ে মোড়ে বাজানো হয় বিপ্লবের সেই কিংবদন্তি গান ‘গ্রান্দোলা, ভিলা মোরেনা’। বিকেলে প্লাসা দো কমার্সিও (Praça do Comércio)-তে আয়োজিত হয় বিশেষ কনসার্ট। পর্যটকদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়; অনেক বিদেশি নাগরিকও পর্তুগিজদের এই আনন্দ উৎসবে শামিল হন।
শুধু পর্তুগালই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা পর্তুগিজ প্রবাসীরাও এই ৫২তম মুক্তি দিবস সাড়ম্বরে উদযাপন করছেন। লন্ডনের ‘লিটল পর্তুগাল’ থেকে শুরু করে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরো—সবখানেই প্রবাসী পর্তুগিজরা র্যালি ও আলোচনার মাধ্যমে দিনটি স্মরণ করছেন।
গণতন্ত্রের এই ৫২ বছর পূর্তি পর্তুগালের জন্য কেবল একটি সংখ্যার উদযাপন নয়, বরং এটি নাগরিকদের জন্য এক গর্বের প্রতীক। সন্ধ্যায় লিসবনের আকাশে বর্ণিল আতশবাজির মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই দিনের আনুষ্ঠানিকতা, যা আগামী প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার বার্তা পৌঁছে দেয়।
বিডি প্রতিদিন/কেএইচটি