ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
ঢাকায় বৃষ্টি হচ্ছে (ফাইল ছবি)
৪ ঘন্টা আগে
পড়ার সময়: ৫ মিনিট
ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন বসন্তকাল, কিন্তু ঢাকার আকাশে যেন বর্ষার আভাস। কয়েকদিন ধরেই বারবার ধূসর মেঘে ঢেকে যাচ্ছে আকাশ। ঈদের সময় যারা দূরের কোনো গন্তব্যে যাবেন, বাড়ি ফিরবেন বা ঘুরতে যাবেন, তাদের অনেকের জন্যই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আকাশের এই অবস্থা।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরও বৃষ্টির পূর্বাভাসই দিচ্ছে। তারা বলছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে আজ এবং আগামী বেশ কিছুদিন আবহাওয়ার এই অবস্থা অব্যাহত থাকারও সম্ভাবনা রয়েছে।
এমন এক সময় এই ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা এসেছে, যখন মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর বা রোজার ঈদ দরজায় কড়া নাড়ছে।
ঘরে ঘরে এখন এই ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি, অনেকে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত। আবার অনেকে ঈদের ছুটিতে পরিবারের সাথে সময় কাটাতে যাওয়ার জন্য অধীর অপেক্ষায় আছেন।
যারা চাকরি, পড়াশোনা, ব্যবসাসহ নানা কারণে পরিবার থেকে দূরে থাকে, তারা যেন এবার ঈদে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে, সেজন্য বাড়তি ছুটিও ঘোষণা করেছে সরকার।
শবে কদর (১৭ই মার্চ) ও ঈদুল ফিতরের (১৮ই মার্চ থেকে ২৩শে মার্চ) ছুটি মিলিয়ে এবার টানা সাত দিন সকল সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
অনেকে আবার বাড়তি ছুটি নিয়ে নির্ধারিত তারিখের আগেই ঈদের ছুটি কাটাতে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
কিন্তু এই সময়ে যদি ঝড়বৃষ্টি হয়, তাহলে কেনাকাটা থেকে শুরু করে মানুষের ঈদযাত্রায়ও বিঘ্ন ঘটতে পারে। আবার অতিরিক্ত গরম পড়লেও ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।
ঈদের আগে আগে বা ঈদের দিন বৃষ্টি হলে খোলা মাঠে ঈদের জামাত আয়োজনেও সমস্য হতে পারে।
তাই, যারা ঈদের জন্য দূরের পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ি যাবেন, তারা আগেভাগেই জেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন যে আগামী কয়েকদিন আবহাওয়া পরিস্থিতি আসলে কেমন থাকবে।

ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
বাংলাদেশে ঈদকে কেন্দ্র করে সড়ক, রেল, নৌপথ ব্যস্ত থাকে (ফাইল ছবি)
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আবহাওয়ার যে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা গেছে এই মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় ও নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এতে আরও বলা হয়েছে যে মার্চের শেষদিকে দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে এক থেকে দুইটি মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বসে যেতে পারে।
এসময় দেশে দুই থেকে তিন দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা বা মাঝারি ধরনের এবং এক থেকে দুই দিন ভীব্র কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্চ, এপ্রিল ও মে মাস হলো কালবৈশাখীর উপযোগী সময়। কিন্তু এখন পর্যন্ত দেশে কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানেনি। তবে আগামী কয়েকদিনের মাঝে এটি বিক্ষিপ্তভাবে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক।
তবে তিনি এটি বারবার উল্লেখ করেছেন, তিন দিনের মাঝে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সবচেয়ে ভালোভাবে বলা যায়। পূর্বাভাস যত দীর্ঘমেয়াদি হয়, তার 'অ্যাকুরেসি' তত কমতে থাকে।

ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
ঈদের দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাচ্ছেনআবহাওয়াবিদরা (ফাইল ছবি)
ঈদের বাকি আছে আনুমানিক সাতদিন। আবহাওয়া পরিস্থিতি দেখে আপাতত ধারণা করা যাচ্ছে, ইদের দিন দেশের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি হবে। তবে তা "সাময়িক", বলছিলেন মি. হক।
তিনি জানান, আপাতত বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি দেখা যাচ্ছে আগামী ১৬ ও ১৭ই মার্চ।
অর্থাৎ, তখন বেশিরভাগ মানুষই ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ির পথে থাকবেন।
সেক্ষেত্রে তখন বৃষ্টির কারণে তাদের ঈদযাত্রায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটতে পারে।
আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলছিলেন, "১৬ ও ১৭ তারিখ বৃষ্টি হয়ে যাওয়ার পর বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে একটি সাময়িক বিরতি আসতে পারে। কিন্তু একাবারে বৃষ্টিহীন হয়ে যাবে, তা কিন্তু নয়।"
"এখন যেহেতু মার্চ মাস, তাই দেশের বিভিন্ন জায়গায় অল্প সময়ের বৃষ্টি হবে। যেখানেই বৃষ্টি হবে, সেখানে এটি আধ ঘণ্টা বা এক ঘণ্টার মাঝে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রপাত হতে পারে।"
তিনি আরও জানান, একটানা বৃষ্টি কোথাও হবে না। কিন্তু কোথায় কোথায় সাময়িক বৃষ্টি হবে, তা এত আগে বলা মুশকিল। কারণ প্রতিদিনই দৈনন্দিন পূর্বাভাসে কিছু না কিছু পরিবর্তন হয়।
এই আবহাওয়াবিদ জানান, ঈদের এই সময়ে খুব বেশি বাতাস হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
"৬০ বা ৭০ কিলোমিটার বেগে বাতাস হবে, এমনটা নয়। ৪০ বা ৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস হতে পারে। সাথে কোথাও বিজলি চমকাতে পারে, বজ্রপাতের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।"

ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
মার্চের শেষে বাংলাদেশে শীতের আমেজ প্রায় চলে যায় (ফাইল ছবি)
আবহাওয়া অফিস বলছে, আপাতত বা ঈদের সময়ে বেশি গরম থাকবে না।
২৮ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো তাপমাত্রা থাকতে পারে ঈদের সময়ে।
এদিকে, কিন্তু মার্চ মাসের এই বৃষ্টি কি আবহাওয়ার স্বাভাবিক প্রবণতা?
উত্তরে নাজমুল হক বলেন যে এখনকার বৃষ্টি তা বাতাসের ধরন ও লঘুচাপের ওপর নির্ভর করে।
"এখন বৃষ্টি হচ্ছে পশ্চিমা লঘুচাপের কারণ। পশ্চিমবঙ্গ-বিহার থেকে যদিও তাপীয় লঘুচাপ থাকে, আর সমুদ্রের ওপর দিয়ে যদি সেই বাতাস বাংলাদেশে প্রবেশ করে, তখন এই দুইয়ের সংমিশ্রণে বৃষ্টি হয়। গত কয়েকদিনে বাংলাদেশে দক্ষিণমুখী বাতাস হচ্ছে, আর তাপীয় লঘুচাপও আছে, এর প্রভাবে বৃষ্টি হচ্ছে," বলছিলেন এই আবহাওয়াবিদ।
তিনি জানান, এই অবস্থা আগামী ১৭ই মার্চ পর্যন্ত থাকতে পারে। এরপর বৃষ্টিপাত কমে যেতে পারে, কারণ বাতাসের ধরণ পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।

ছবির ক্যাপশান,
আজ সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন (ফাইল ছবি)
আজ শুক্রবার সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন, রোদের তেজ কম, বাইরে ঠাণ্ডা বাতাস।
এদিন সকাল ৯টায় যে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যায় যে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে এখন মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থান করছে।
এতে আগামী পাঁচদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, আজ ১৩ই মার্চ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের দুই এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
১৪ই মার্চ থেকে ১৭ই মার্চ পর্যন্ত দেশের প্রায় সব বিভাগের কোথাও না কোথাও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে এতে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৩ দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস, বান্দরবানে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহীর বদলগাছীতে, ৪৭ মিলিমিটার।