ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলার পর রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া উপদ্বীপ ও বন্দরনগরী সেভাস্তোপোলে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরো অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
রুশ-নিযুক্ত সেভাস্তোপলের গভর্নর মিখাইল রাজবোঝিয়েভ জানিয়েছেন, ক্রিমিয়ার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত জটিল এবং অনেক এলাকায় সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তিনি বলেন, জরুরি সেবা ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামতের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতির ব্যবহার সীমিত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে জাতীয় গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়।
পরিস্থিতির অবনতির কারণে ব্যক্তিগত যানবাহনের জন্য জ্বালানি বিক্রি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া গণপরিবহন, দোকানপাট, ক্যাফে এবং সড়কবাতি পরিচালনায় সময়সীমা আরোপ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন ক্রিমিয়াকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক দূরপাল্লার ড্রোন ও বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপদ্বীপজুড়ে জ্বালানি সংকট এবং ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, শুক্রবার রাতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোট ৬৬০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এর মধ্যে মস্কো, ক্রিমিয়া এবং দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল।মস্কোর দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর এক রাতে পরিচালিত সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলাগুলোর একটি ছিল এটি।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করাই কিয়েভের প্রধান লক্ষ্য। তাঁর ভাষায়, আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ক্রিমিয়া ইউক্রেনের অবস্থানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এদিকে পাল্টা হামলার অংশ হিসেবে শুক্রবার ইউক্রেনের নিকোপোল শহরে রুশ ড্রোন হামলায় একটি মিনিবাসে আঘাত হানে। এতে দুই যাত্রী নিহত এবং অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। এছাড়া সুমি অঞ্চলে পৃথক আরেকটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে ফ্রান্সের নৌবাহিনী। পশ্চিমা দেশগুলোর দাবি, এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে রাশিয়ার তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখা হচ্ছে। রাশিয়ার দূতাবাস এ ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।
রাশিয়া-নিযুক্ত ক্রিমিয়ার প্রধান সার্গেই আক্সিনোভ জানিয়েছেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক সহায়তা, ঋণ পুনর্বিন্যাস এবং ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ করা।
বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিমিয়াকে কেন্দ্র করে ড্রোন যুদ্ধের এই নতুন ধাপ কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষের জন্যই নতুন অর্থনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।