হলিউডের জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এ ‘ডেনেরিস টারগেরিয়ান’ চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পান ৩৯ বছর বয়সি অভিনেত্রী এমিলিয়া ক্লার্ক। তবে এই আকাশচুম্বী সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে ছিল তার জীবন-মৃত্যুর এক চরম লড়াই। 

সম্প্রতি ‘হাউ টু ফেইল উইথ এলিজাবেথ ডে’ পডকাস্টে অংশ নিয়ে সেই স্মৃতিই সামনে আনলেন এই তারকা অভিনেত্রী। 

এমিলিয়া জানান, সেই শুটিং চলাকালীনই তিনি দু-দুবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোকের শিকার হয়েছিলেন। এক সময় তিনি এতটাই ভেঙে পড়েছিলেন যে তার মনে হতো, ‘এবার হয়তো আমি মারাই যাব।’ 

প্রথম ঘটনাটি ঘটেছিল ‘গেম অব থ্রোনস’-এর প্রথম সিজনের শুটিং শেষ হওয়ার পরপরই। লন্ডনের একটি জিমে ওয়ার্কআউট করার সময় হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান তিনি। 

সেই মুহূর্তের অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে এমিলিয়া বলেন, ‘মনে হচ্ছিল মাথার ভেতর একটা ইলাস্টিক ব্যান্ড ছিঁড়ে গেল।’ হাসপাতালে নেওয়ার সময় চেতনা ধরে রাখতে এবং নিজের স্বপ্নের অভিনয় পেশাটাকে বাঁচানোর তাগিদে তিনি বারবার মনে মনে নিজেকে বলছিলেন, ‘আমি একজন অভিনেত্রী, আমাকে জেগে থাকতে হবে।’ 

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ঝড় তুলেছে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক, সামনে কেবল ‘ওপেনহাইমার’

ঝড় তুলেছে মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক, সামনে কেবল ‘ওপেনহাইমার’

সুস্থ হওয়ার পর এক গভীর অপরাধবোধ ও লোকলজ্জা তাকে গ্রাস করেছিল। তিনি সারাক্ষণ ভয়ে থাকতেন। প্রযোজক বা নির্মাতারা যদি তার এই অসুস্থতার কথা জানতে পারেন, তবে তাকে ‘দুর্বল’ বা ‘অক্ষম’ ভেবে শো থেকে বাদ দিয়ে দিতে পারেন। যদিও তিনি শো-রানার ডেভিড বেনিওফ এবং ডি.বি. ওয়াইসকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন, তবে সাধারণ মানুষের কাছে দীর্ঘ সময় এটি গোপন রেখেছিলেন। 

এমিলিয়ার জীবনের দ্বিতীয় বড় ধাক্কাটি আসে যখন তিনি নিউইয়র্কের ব্রডওয়েতে পারফর্ম করছিলেন। সেখানে তার মস্তিষ্কে দ্বিতীয় অ্যানিউরিজম ধরা পড়ে এবং জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হয়, যা তাকে প্রায় মৃত্যুর কোলে ঠেলে দিয়েছিল। 

সেই ভয়াবহ স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে চিকিৎসকেরা প্রতি আধা ঘণ্টা পর পর আমার বাবা-মাকে বলছিলেন যে, আমি আর হয়তো বাঁচব না।’ এই দ্বিতীয় স্ট্রোকটি তাকে মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে দেয়। নিজের শরীর ও মস্তিষ্কের ওপর থেকে তার বিশ্বাস উঠে গিয়েছিল।

অস্ত্রোপচারের কিছুদিন পরই তাকে ‘সান ডিয়েগো কমিক-কন’-এ সিরিজের প্রচারণায় অংশ নিতে হয়েছিল। এমিলিয়া জানান, মঞ্চে ওঠার আগে তিনি ভাবছিলেন, ‘যদি আমাকে মরতেই হয়, তবে লাইভ টিভির সামনেই মরব।’ 

এত বড় মানসিক ও শারীরিক ট্রমার পরও এমিলিয়া মনে করেন, অভিনয়ই তাকে সে সময় বাঁচিয়ে রেখেছিল। নিজের কাজকে আঁকড়ে ধরেই তিনি এই কঠিন সময় পার করেছেন।

বর্তমানে নিজের এই যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতাকে অভিনেত্রী কাজে লাগাচ্ছেন অন্যদের সহায়তায়। 

২০১৯ সালে তিনি ‘সেমইউ’ নামে একটি দাতব্য সংস্থা গড়ে তোলেন, যা মস্তিষ্কে আঘাতপ্রাপ্ত বা ব্রেন স্ট্রোক থেকে বেঁচে ফেরা মানুষদের মানসিক ও চিকিৎসাগত সহায়তা প্রদান করে। এই ধরনের অসুস্থতার পর যে চরম একাকীত্ব তৈরি হয়, তা দূর করতেই কাজ করে যাচ্ছে তার এই সংস্থাটি। 

পেছনের এক দশকের ‘গেম অব থ্রোনস’ জার্নির দিকে তাকিয়ে এমিলিয়া এখন মনে করেন, এই সিরিজটি ছিল তার জীবনের এক অভাবনীয় জাদু এবং তার যৌবনের সবচেয়ে স্মরণীয় একটি অধ্যায়। 

সূত্র: জিও নিউজ 



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews