ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডে মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিউর ফ্রান্সেসকা আলবানিজের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফেডারেল এক বিচারক এক সপ্তাহ আগে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো তার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করেছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের ওয়েবসাইটে সংক্ষিপ্ত আপডেটে আলবানিজের নাম ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট-সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার’ শিরোনামের অধীনে তালিকাভুক্ত করা হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা।
আলবানিজের স্বামী ও কন্যা ফেব্রুয়ারিতে একটি মামলা করেন। তাতে বলা হয়, আলবানিজের প্রকাশ্য বক্তব্য ও মানবাধিকার বিষয়ে অবস্থানের কারণে তাকে শাস্তি হিসেবে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জজ লিওন রায়ে বলেন, ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তার বক্তব্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। কারণ এটি প্রকাশিত মতামত বা বার্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। ট্রাম্প প্রশাসন আলবানিজের বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও বিদ্বেষপূর্ণ কার্যকলাপ’ এবং ল’ফেয়ার (আইনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার) করার অভিযোগ এনে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর মধ্যে ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সুপারিশ করা।
জজ লিওন তার সিদ্ধান্তে বলেন, এটা অস্বীকার করা যায় না যে তার সুপারিশ আইসিসির সিদ্ধান্তের ওপর বাধ্যতামূলক কোনো প্রভাব ফেলে না- এগুলো কেবল তার মতামত। আলবানিজ বুধবার তাৎক্ষণিকভাবে এই ঘোষণার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে এর আগে তিনি বলেন, এই নিষেধাজ্ঞা তার মিশনকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে তিনি এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে আদালতের অস্থায়ী আদেশকে স্বাগত জানান এবং তার স্বামী ও কন্যাকে ধন্যবাদ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জুলাই মাসে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ওই সময় আলবানিজ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। তাতে তিনি ৪৮টি কোম্পানিকে গাজায় ইসরাইলের ‘গণহত্যামূলক যুদ্ধের’ সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন। এর মধ্যে ছিল মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট (গুগলের মূল কোম্পানি) এবং অ্যামাজন।
আলবানিজ ২০২২ সালের মে থেকে জাতিসংঘের এই বিশেষ র্যাপোর্টিউর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্যদের দ্বারা নিয়োজিত স্বাধীন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের একজন।