রাজনীতিতে স্লোগানের জন্মের ইতিহাস বহু পুরোনো। পরাধীন ব্রিটিশ ভারতের রাজনীতিতে প্রথম স্লোগান একটি নয়, দুটি। হিন্দুদের ‘বন্দেমাতরম’ আর মুসলমানদের ‘নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার’। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময় প্রথম শোনা গেল এই স্লোগান দুটি। একটি ছিল বাংলাকে কলকাতায় ধরে রাখার স্লোগান। আরেকটি ঢাকার বিকাশের আবাহন। স্লোগানের মধ্যেই বাংলা তথা ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট। স্লোগান দুটি পরে রাজনীতিকে ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি অভিমুখে নিয়ে যায়। এই দুই স্লোগান ছাড়াও জনপ্রিয়তা পায় ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান। হসরত মোহানি ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের জন্মদাতা। তিনি ছিলেন এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বÑ একদিকে বিপ্লবী রাজনীতিক ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কর্মী, অন্যদিকে গভীর প্রেম ও আধ্যাত্মিকতার কবি। তাঁর কবিতায় যেমন প্রেমিকার স্মৃতি আছে, তেমনি আছে স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা ও মানবমুক্তির চেতনা।
ভারতে ‘বন্দেমারতম’, দেখা যাচ্ছে পিছু হটছে হিন্দুত্ববাদীদের আমলে। পিছু হটছে কারণ, হিন্দুত্ববাদীদের অতীত ইতিহাসে এমন একজন নেতা-কর্মীও নেই, যিনি দেশপ্রেমের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বন্দেমাতরম বলতে বলতে ফাঁসির মঞ্চে প্রাণ দিয়েছিলেন। বরং তারা আরো উগ্র হিন্দুত্ববাদ চান। ফলে স্বাধীনতা আন্দোলনের সেই ইতিহাস তাঁরা ভুলে যেতে চান। ভুলে থাকতে চান। সে কারণেই ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানে তারা মুখরিত করে তুলতে চাইছেন সারা ভারত, যা সাম্প্রদায়িক, হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির চরিত্র প্রকাশ করে।
আর বাংলাদেশ কিন্তু অবিভক্ত ভারতের সাম্রাজ্যবাদ-আধিপত্যবাদ বিরোধী ইনকিলাব জিন্দাবাদকে রূপান্তরিত করেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ের হাতিয়ার হিসাবে। ছাত্র-জনতা ঝাঁপিয়ে পড়েছে ন্যায়ের লড়াইয়ে। শতবর্ষ পরে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইনকিলাব জিন্দাবাদের নবজন্ম দিয়েছে গণতন্ত্রের দিশায়। এভাবেই ইনকিলাব জিন্দাবাদÑ হসরত মোহানির আন্তর্জাতিককৃত সেই স্লোগান উপনিবেশবিরোধী লড়াই ও গণআন্দোলনের ভাষ্য হিসেবে উপমহাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে গভীর জায়গা করে নিয়েছে। চিরায়ত সেই স্লোগান ফিরে এসেছে আধিপত্যবাদী, সম্প্রসারণবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার রণধ্বনি হয়ে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পটভূমিতে নবজন্ম হয়েছে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’।
মূলত বঙ্গভঙ্গের সময় থেকেই রাজনীতি স্লোগানের মাধ্যমে জনজাগরণে রূপান্তরিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ইনকিলাব জিন্দাবাদ সামগ্রিকভাবে স্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায় ও বৈরী শক্তির বিরুদ্ধে গণআত্মনির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে এই স্লোগান নতুন অর্থ ও কার্যকর ভূমিকায় অভ্যুত্থিত হয়েছে। এটি শুধু ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংগ্রামের ন্যায়, সাহস ও স্বাধীনতার আহ্বান।
ঐতিহাসিক বিবর্তন ও উপমহাদেশের প্রেক্ষাপটে উপমহাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে স্লোগানের গুরুত্বের শুরুর সূত্র মিলবে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে চলা আন্দোলনের মধ্যে। ১৯ শতাব্দীর শেষে ও ২০ শতাব্দীর শুরুতে বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলন জনমনে সহজে গ্রহণযোগ্য মন্ত্র মতবাদে রূপান্তরিত হতে থাকে। বন্দে মাতরম বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের গানের ভাষায় অভিব্যক্ত দেশপ্রেমÑ হিন্দু জাতীয়তাবাদের এক নির্দিষ্ট সাহচর্যে সময়ে সময়ে পুনরুজ্জীবিত হয়। একই সময়ে মুসলিম জনজাতির মধ্যে ধর্মীয় উদ্দীপনা জাগ্রত করতে নারায়ে তাকবির ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ স্লোগানগুলো কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়, ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতিফলনও ছিল।
এমতাবস্থায়, হসরত মোহানি ১৯১৩-১৯৩০ দশকে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’কে একটি বিস্তৃত প্রগতিশীল ও বিপ্লবী ধারণা হিসেবে প্রচার করেন। তাঁর নেতৃত্বে এই স্লোগান অবাধ্যতার, শোষণবিরোধী চেতনার ও সাম্রাজ্যবিরোধী সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে গৃহীত হয়। পরে ১৯৩০-৪০ দশকে বিপ্লবী নেতারা ও কমিউনিস্ট, সমাজতান্ত্রিক ও বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী ইনকিলাব ধ্বজাকে জনজাগরণে ব্যবহার করে। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইতে এটি একধরনের ঐক্যবদ্ধ ক্রোধ ও আশা হয়ে উঠলÑ শাসনপদ্ধতি পাল্টানোর, সামাজিক বৈষম্য ভাঙার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার ইঙ্গিত হিসেবে।
বঙ্গভঙ্গের সময়কালে রাষ্ট্রবিভক্তি ও স্লোগানের রূপান্তর ছিল সুস্পষ্ট। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় কলকাতা-ঢাকা কেন্দ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জনআন্দোলন তীব্রতর হতে থাকে। বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক অনুভূতি প্রকাশ পায়Ñ পশ্চিমবঙ্গে (কলকাতা) বাংলার কেন্দ্র ধরে রাখার আকাক্সক্ষা ও পূর্ব বাংলায় (ঢাকা) স্বকেন্দ্রিক বিকাশের আহ্বান। এই দ্বৈততা স্লোগানগুলোর মধ্যেই প্রতিফলিত হয়Ñ বন্দে মাতরম ও নারায়ে তাকবির একদিকে সাংস্কৃতিক অভিমান ও ধর্মীয় আবেগের মিশ্রণ, অন্যদিকে ইনকিলাব জাতীয়তাবাদের, শ্রেণিবিরোধী চেতনার ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের তীব্রতা নির্দেশ করে। উপমহাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস জুড়ে এই তিন ধরনের স্লোগান বিভিন্ন সময়ে একে অপরের সাথে সংঘাতে ও সংমিশ্রণে দেখা যায়, যার ফলে পরে দেশীয় ও ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির ধারাগুলো বিকশিত হয়।
বিভাজনের পরে উপমহাদেশের রাজনীতিতে স্লোগানগুলো বিশেষভাবে স্থান পায়। ভারত ও পাকিস্তানÑ এই দুই নতুন রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিচয় ও ভাষাভিত্তিক, ধর্মভিত্তিক দিকগুলো স্লোগানের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। ভারতীয় দিক থেকে বন্দে মাতরম হিন্দুত্ববাদী জন-পরিসরে ব্যবহৃত হতে থাকে, কখনো কখনো সংবিধানিক-রাষ্ট্রীয় প্রতীক হিসেবে বিতর্কে জড়ায়, যা তা ভিন্ন ধর্মীয় ও সংখ্যালঘুদের উপরও চাপিয়ে দেওয়া হয়। পাকিস্তানের ইসলামিক-জাতীয়তাবাদে ধর্মীয় স্লোগানগুলো প্রধান রাজনৈতিক ভাষ্যে রূপ নেয়। সেই সূত্র ধরেই স্বাধীন ভারতের পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির আবির্ভাবে বন্দে মাতরম ও জয় শ্রী রামÑ এই ধরনের ধর্মমুখী স্লোগানগুলো প্রচলিত ও বিতর্কিত হয়ে ওঠে এবং সংখ্যাগুরু হিন্দু রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় আগ্রাসনের প্রতীকে পরিণত হয়। এর সঙ্গে মানবাধিকার ও অন্য ধর্মের নিধন ও নিপীড়ন এসে যুক্ত হয়।
বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় স্লোগানগুলো রক্তাক্ত প্রতিরোধ, গণসংস্কারের ভাষা ও জাতীয়তার অনুভূতিÑ সব মিলেই স্বাধীনতা-আভাস তৈরি করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের পরে দেশের সংবিধান ও সমাজবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ তার আদ্যন্ত রাজনৈতিক ও নৈতিক সারমর্ম বজায় রাখেÑ শোষণবিরোধী, সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী ও গণতান্ত্রিক আদর্শের প্রতীক হিসেবে।
পরবর্তী ঘটনাবলী, সামরিক শাসন ও সামন্তবাদের পুনরাবির্ভাব বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই সময় অনেক ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক অর্জন ধাক্কা খায়; রাজনৈতিক সংগঠনগুলো পৃথকীকরণ ও নিষ্পেষণের শিকার হয়। কিন্তু জনগণের সংগ্রাম থেমে যায়নি। ছাত্র-জনতা ও জাতীয়তাবাদী, দেশপ্রেমিক উদারপন্থী, ধর্মনিরপেক্ষ বিভিন্ন শক্তি বিভিন্ন সময়ে ও পর্যায়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এখানেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক পুনরূদ্ধারের আন্দোলন তাত্ত্বিক ও কার্যকর ভঙ্গিতে ইনকিলাব জিন্দাবাদের পুনর্জন্ম ঘটায়। ঐতিহাসিক ইনকিলাব ধাঁচে উঠে আসে এক নতুন আপিল: গণতন্ত্র রক্ষা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী সংহতি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈশিষ্ট্য ও ইনকিলাব জিন্দাবাদের ভূমিকা তাই ঐতিহাসিক। কারণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি দিনের ঘটনা নয়। এটা উদ্ভূত হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, সংগ্রাম ও সংগঠিত বিক্ষোভের ধারাবাহিকতা থেকে। এই আন্দোলনের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো, ছাত্র-জনতার নেতৃত্ব, নাগরিক সক্রিয়তা, সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমের ভূমিকা, পেশাগত ও বোদ্ধা শ্রেণীর সহানুভূতি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংবেদনশীলতা। এসব মিলেই আন্দোলন একটি রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কন্টেক্সটে ইনকিলাব জিন্দাবাদের পুনরায় অর্থ দেয়। এখানে ইনকিলাব জিন্দাবাদ কেবল শব্দ নয়, এটি নীতি, কৌশল ও আদর্শের সমাহার: ক্ষমতার উৎখাত নয়, বরং গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন, শাসন প্রণালির জবাবদিহি ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার দাবি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইনকিলাব জিন্দাবাদ বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে পশ্চিমা বা দেশের বাইরে প্রচলিত উগ্রপন্থী বা সামরিক বিপ্লবের ধারণার সমতুল্য নয়। এখানে ইনকিলাব বলতে বোঝানো হচ্ছে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক, সামাজিক ন্যায়মুখী বা ইনসাফপন্থী সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রতি আহ্বান। এটি তৎক্ষণিক ক্ষমতা দখলের স্লোগান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও গণ-অধিকার পুনর্বহালের লক্ষ্যে জনজাগরণ ও সংহতির নিদর্শন।
সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোতে ইনকিলাব জিন্দাবাদ ব্যবহৃত হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, ইতিহাসের সাথে সংযোগ স্থাপন। যখন রাজনৈতিক দল বা শাসকশক্তি স্বাধীনতার ইতিহাসকে বিকৃত বা অস্বীকার করে, জনগণ ঐতিহ্য ও সংগ্রামের স্মৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রতীকী স্লোগানগুলো সামনে তুলে আনে। ইনকিলাব জিন্দাবাদ সেই রকম একটি প্রতীকÑ এটিতে আছে আন্দোলনের ধারাবাহিকতার দাবি, পৈতৃক সংগ্রামের মর্যাদা ও উত্তরাধিকার এবং ভবিষ্যৎকামী প্রতিজ্ঞা।
যদিও ইনকিলাব জিন্দাবাদ জনজাগরণে শক্তিশালী অস্ত্র, তবু এর ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি। স্লোগানের রাজনৈতিক কার্যকারিতা তখনই স্থায়ী হয় যখন সেটি একটি নৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামোর সাথে বাঁধা থাকে, যেমন: নীতিগত স্পষ্টতা, গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব, সংবিধানাধিকার রক্ষা ও সামাজিক সহনশীলতার প্রতিশ্রুতি। ইতিহাস দেখায়, স্লোগান যদি শূন্য প্রতিশ্রুতি বা ক্ষণস্থায়ী আবেগের পর্যায়ে আটকে যায়, তা দ্রুত অপপ্রয়োগের হাত ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার বা উগ্রবাদের পক্ষেও ব্যবহার হতে পারে। তাই ইনকিলাব জিন্দাবাদকে পরিমিত, দায়িত্বশীল ও আইনি পথে পরিচালিত করতে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন ও বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা অপরিহার্য।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ইনকিলাব জিন্দাবাদ শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, এখনকার রাজনৈতিক সনদ, যা জনগণের আত্মসম্মান ও স্বাধীনতার দাবিকে প্রতিনিধিত্ব করে। সুতরাং, ইতিহাসকে ভুলে না রেখে, শিক্ষিতভাবে ও গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলনকে চলমান রাখা হলে জুলাইয়ের পটভূমিতে ইনকিলাব জিন্দাবাদ বাংলাদেশে নতুন এক যুগের সূচনা ঘটাতে পারে, যেখানে শাসনের জবাবদিহি, সামাজিক ন্যায়, ন্যায্যতা ও মানবিক চেতনা সব চেয়ে উচ্চ পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গণতান্ত্রিক সুশাসনকে বেগবান করবে।
লেখক: চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম সেন্টার ফর রিজিওনাল স্টাডিজ বাংলাদেশ (সিসিআরএসবিডি)।