স্মার্টফোন ব্যবহার করার সময় দেখা যায় হঠাৎ দেখেন স্ক্রিন নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বা কালো হয়ে যাচ্ছে। তখন অনেকেই ভাবেন ফোনে হয়তো কোনো ত্রুটি হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি কোনো সমস্যা নয়। আধুনিক স্মার্টফোনে এমন কিছু ফিচার থাকে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিন বন্ধ করে ব্যাটারি বাঁচায় এবং ব্যবহারকে আরও নিরাপদ করে।
স্ক্রিন টাইমআউটের কারণে এমন হতে পারে
স্মার্টফোনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস হলো স্ক্রিন টাইমআউট। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ফোনে কোনো স্পর্শ বা ব্যবহার না হলে স্ক্রিন নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায়। এতে ফোনের ব্যাটারি অনেকটা সাশ্রয় হয়। কারণ মোবাইল ফোনে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচ করে স্ক্রিনই। সাধারণত অনেক ফোনে এই সময়সীমা ১৫ সেকেন্ড, ৩০ সেকেন্ড বা ১ মিনিটে সেট করা থাকে।
যদি মনে হয় স্ক্রিন খুব দ্রুত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তাহলে সেটিংস থেকে এটি পরিবর্তন করা যায়। ফোনের সেটিংস > ডিসপ্লে > স্ক্রিন টাইমআউট অপশনে গিয়ে সময় বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব। সেখানে ২ মিনিট, ৫ মিনিট বা তারও বেশি সময় নির্ধারণ করা যায়।
পাওয়ার সেভিং মোড চালু থাকলেও স্ক্রিন দ্রুত বন্ধ হয়
অনেক সময় ফোনে ব্যাটারি সেভার বা পাওয়ার সেভিং মোড চালু থাকলে স্ক্রিন দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। এই মোডটি ব্যাটারির ব্যবহার কমানোর জন্য স্ক্রিনের সময়সীমা ছোট করে দেয়। ফলে ফোন দীর্ঘ সময় ব্যবহার করা সম্ভব হয় এবং অতিরিক্ত গরম হওয়ার ঝুঁকিও কমে।
কলের সময় স্ক্রিন বন্ধ হওয়ার কারণ
ফোনে কথা বলার সময় অনেকেই লক্ষ্য করেন, ফোন কানের কাছে নিলে স্ক্রিন সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যায়। এটি আসলে একটি প্রক্সিমিটি সেন্সর নামের প্রযুক্তির কাজ। ফোনের উপরের অংশে থাকা এই সেন্সর বুঝতে পারে কখন ফোনটি কানের কাছে আছে। তখন স্ক্রিন বন্ধ হয়ে যায়, যাতে ভুল করে মিউট, হোল্ড বা কল কেটে যাওয়ার মতো বাটন চাপা না পড়ে।
কখনো কখনো সেন্সরের সামনে ময়লা জমে গেলে, মোটা স্ক্রিন প্রটেক্টর লাগানো থাকলে বা ফোন কেস সেন্সর ঢেকে ফেললে স্ক্রিন অস্বাভাবিকভাবে আচরণ করতে পারে। তখন ফোনের উপরের অংশ পরিষ্কার করা বা কভার খুলে পরীক্ষা করলে সমস্যার সমাধান হতে পারে।
যদি স্ক্রিন টাইমআউট ঠিক করার পরও বা সেন্সর পরিষ্কার করার পরও ফোনের স্ক্রিন বারবার বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে এটি সফটওয়্যার সমস্যা, অতিরিক্ত গরম হওয়া বা ব্যাটারির ত্রুটির কারণেও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সার্ভিস সেন্টারে ফোন নিয়ে যাওয়া ভালো।
কেএসকে