হোমার এবং তাঁর দুটি বিখ্যাত মহাকাব্য ইলিয়াড ও অডিসি—এগুলো কি সেই মানুষদের সম্পদ, যাদের সঙ্গে আমি মার্কোপুলো শহরের সাদামাটা একটি সিনেমা হলে বসে নোলানের অডিসি দেখেছি?
নাকি এগুলো এমন এক কৃত্রিম প্রাচীন সভ্যতার অংশ, যার সাংকেতিক নাম ‘পশ্চিম’, আর যেটি এক প্রজন্মের ইউরোপীয় বর্ণবাদী পণ্ডিত (যেমন অস্ট্রিয়ান ইয়াকব ফিলিপ ফালমেরায়ের) নিজেদের জন্য তৈরি করেছিলেন?
এই পরিকল্পিত মতাদর্শিক প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক গ্রিকদের তাঁদের নিজেদের ভাষা, সাহিত্য ও দর্শনের ঐতিহ্য থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল।
এর সবই করা হয়েছিল গ্রিসকে ‘পশ্চিমা সভ্যতার’ কাল্পনিক ভিত্তি হিসেবে নতুন করে নির্মাণের মাধ্যমে।
একই সঙ্গে গ্রিসের এশিয়া মাইনর বা আনাতোলিয়ার সঙ্গে তার স্বাভাবিক ভৌগোলিক, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।
অথচ আনাতোলিয়াই সেই ভূখণ্ড, যেখানে গ্রিস, তুরস্ক, লেভান্ট, মিসর ও উত্তর আফ্রিকার মধ্যে বহু গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহাসিক যোগসূত্র গড়ে উঠেছিল।
এই প্রতারণামূলক মতাদর্শিক কৌশল (যার শিকড় শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের বর্ণবাদী আগ্রাসনের মধ্যেও রয়েছে) গ্রিসকে তার ঐতিহ্য থেকে বঞ্চিত করেছে।
সেই ঐতিহ্যের নিদর্শনগুলো আক্ষরিক অর্থেই পাথর ধরে ধরে ব্রিটিশ মিউজিয়াম বা প্যারিসের ল্যুভ জাদুঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আধুনিক ঔপনিবেশিক ও ইউরোকেন্দ্রিক স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য। এভাবে এমন একটি বিষয়কে বানানো হয়েছে, যার বাস্তবে কখনো অস্তিত্বই ছিল না।
কুখ্যাত ফালমেরায়ের তত্ত্ব ছিল, আধুনিক গ্রিকদের সঙ্গে প্রাচীন হেলেনদের কোনো সম্পর্ক নেই।
তাঁর দাবি ছিল, স্লাভ ও আলবেনীয়দের অভিবাসনের ফলে গ্রিসের আদি জনগোষ্ঠী পুরোপুরি প্রতিস্থাপিত হয়েছিল। যেন কোনো ভূখণ্ডে মানুষের অভিবাসন ঘটাই ভুল—অথবা এমন অভিবাসন শুধু গ্রিসেই ঘটেছিল!