থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা সোমবার কারাগার থেকে আগাম মুক্তি পেয়েছেন। এর ফলে দেশটির এই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের আবারো সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

৭৬ বছর বয়সী এই টেলিকম ধনকুবের গত সেপ্টেম্বর থেকে দুর্নীতির দায়ে এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। তবে চার মাসের প্রবেশন মেয়াদে তাকে ইলেকট্রনিক নজরদারি যন্ত্র পরিধান করতে হবে।

ব্যাংককের কারাগারের বাইরে মুক্তি পাওয়ার পর থাকসিন পরিবারের সদস্যদের আলিঙ্গন করেন। এ সময় তার শত শত সমর্থক লাল রঙের পরিচিত পোশাক পরে সেখানে জড়ো হন। ব্যাংককে এএফপির এক সাংবাদিক জানান, তাদের কেউ কেউ ‘উই লাভ থাকসিন’ বলে স্লোগান দেন।

৭০ বছর বয়সী জানথানা চাইদেজ নামের এক সমর্থক বলেন, ‘আমি মনে করি না তিনি রাজনীতি ছাড়বেন।’ সমর্থন জানাতে তিনি রেস্তোরাঁর বাবুর্চির কাজ থেকে এক দিনের ছুটি নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘থাকসিন হয়তো কয়েক মাস দূরে থাকবেন, কিন্তু রাজনীতি ছাড়বেন না।’

লাল পোশাকধারী সমর্থকদের উদ্দেশে হাসিমুখে হাত নাড়লেও কারাগারের বাইরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেননি থাকসিন। পরে তিনি গাড়িতে করে সেখান থেকে চলে যান।

গত দুই দশক ধরে থাকসিনের রাজনৈতিক বলয় থাইল্যান্ডের সামরিকপন্থী ও রাজতন্ত্রপন্থী অভিজাত গোষ্ঠীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ওই গোষ্ঠী তার জনতাবাদী রাজনীতিকে দেশটির প্রচলিত সামাজিক ব্যবস্থার জন্য হুমকি মনে করে।

তার দল ফেউ থাই পার্টি এবং এর আগের সংস্করণগুলো একবিংশ শতাব্দীতে থাইল্যান্ডের সবচেয়ে সফল রাজনৈতিক শক্তি। সিনাওয়াত্রা পরিবার থেকে চারজন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছেন।

তবে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ফেউ থাই তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ ফল করে তৃতীয় স্থানে নেমে যায়। এতে থাকসিন পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।

তারপরও রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে ফেউ থাইয়ের অন্তর্ভুক্তি থাকসিনের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছে।

রাজনীতি বিশ্লেষক ওয়ানউইচিত বুনপ্রং বলেন, ‘থাকসিনের মুক্তি স্বল্পমেয়াদে ফেউ থাইকে শক্তিশালী করবে, কারণ মানুষ অনুভব করবে যে দলের মূল চালিকাশক্তি ফিরে এসেছে।’

তবে তিনি বলেন, থাকসিনের ‘পুরোনো শত্রুরা’, অর্থাৎ রক্ষণশীল গোষ্ঠী, আনুতিনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হবে। কারণ ‘থাকসিনের যে বিষয়টি নেই, আনুতিনের সেটি আছে—অভিজাতদের আস্থা।’

তিনি আরো বলেন, ‘থাকসিনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং তিনি রাজনীতি থেকে দূরে থাকবেন কি না- সেদিকেই নজর রাখবে রক্ষণশীল শিবির।’

গত মাসে কারা কর্তৃপক্ষ থাকসিনের প্যারোলে মুক্তির ঘোষণা দেয়। তার বয়স এবং সাজাভোগের মেয়াদ এক বছরের কম বাকি থাকাকে আগাম মুক্তির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

গত বছর সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ২০২৩ সালের সাজা তিনি যথাযথভাবে কারাগারে নয়, বরং হাসপাতালের বিশেষ কক্ষে কাটিয়েছেন।

২০০১ সালে প্রথমবার এবং ২০০৫ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন থাকসিন। দ্বিতীয় মেয়াদ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেষ হওয়ার পর তিনি স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান।

২০২৩ সালের আগস্টে থাইল্যান্ডে ফিরে আসার পর তিনি দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে আট বছরের কারাদণ্ড ভোগ শুরু করেন।

তবে কারাগারে না নিয়ে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তাকে হাসপাতালে বিশেষ কক্ষে রাখা হয়। পরে রাজকীয় ক্ষমার মাধ্যমে তার সাজা কমিয়ে এক বছর করা হয় এবং প্রবীণ বন্দিদের আগাম মুক্তি কর্মসূচির আওতায় তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

ফেউ থাই নতুন সরকার গঠনের সময় তার দেশে ফেরা ও হাসপাতালে স্থানান্তরের ঘটনাকে ঘিরে জনমনে গোপন সমঝোতার সন্দেহ ও বিশেষ সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

গত সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, থাকসিন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন না এবং হাসপাতালে কাটানো সময় সাজাভোগ হিসেবে গণ্য হবে না। এর ফলে তাকে এক বছরের সাজা ভোগের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়।

আগাম মুক্তির অনুমোদন পাওয়া ৮৫০ জন বন্দীর একজন ছিলেন থাকসিন।

থাকসিনের মেয়ে ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা বৃহস্পতিবার কারাগারে বাবার সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা রাজনীতি নিয়ে কোনো আলোচনা করিনি। শুধু পারিবারিক বিষয় নিয়েই কথা হয়েছে।’

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে ফেউ থাইয়ের প্রধান মুখ হওয়া থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদচানান ওংসাওয়াত আনুতিনের মন্ত্রিসভায় উচ্চশিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

সূত্র : এএফপি/বাসস



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews