ফরিদগঞ্জের চরবসন্ত গ্রামের সাখাওয়াত পাটওয়ারী (২৮) আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তাকে বসতবাড়ি থেকে আটকের পর ছেড়ে দিয়েছে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ। বিনিময়ে ‘৫০ হাজার টাকা’ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২রা মার্চ রাত ৮টার দিকে স্থানীয় চরবসন্ত গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সাখাওয়াত স্থানীয় চরবসন্ত গ্রামের লোকমান হোসেন লুকু পাটওয়ারীর ছেলে। ছাড়া পেয়ে পরদিন ৩রা মার্চ তিনি বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।
‎জানা গেছে, ঘটনার দিন সাখাওয়াত নিজ বসতঘরে খাবার খেতে বসেন। এসময় এএসআই আরিফ হাসানের নেতৃত্বে এসআই জাকির হোসেন, কনস্টেবল বশির ও সঙ্গীয় ফোর্স বাড়ি ঘেরাও করে। তারা সাখাওয়াতকে আদালতের ওয়ারেন্টের কথা বলে আটক করে নিয়ে যায়। ওই সময় তিনি খাবারও শেষ করতে পারেননি। পুলিশ তাকে নিয়ে বটতলা এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে সাখাওয়াতকে ছেড়ে দেয়া হবে আশ্বাস দিয়ে ১ লাখ টাকা দাবি করে বলে দাবি করেছেন সাখাওয়াতের ভাবী। ‎এদিকে, সাখাওয়াতের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকায় দফারফা হয় মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর, সাখাওয়াতের কল পেয়ে তার বোন আমেনা এএসআই আরিফের হাতে ৫০ হাজার টাকা দেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। টাকা পেয়ে ওয়ারেন্টভুক্ত সাখাওয়াতকে ছেড়ে দেয়া হয়। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দেখেছেন বলে দাবি করেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাখাওয়াতের ভাবী ঘটনার বর্ণনা দেন এবং এর সত্যতা স্বীকার করেন।
‎এদিকে, জানতে চাইলে এএসআই আরিফ প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। ঘটনার বর্ণনা দেয়ার পর তিনি এএসআই নাজমুলের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এরপর এএসআই নাজমুল বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলে জানালে আরিফ বলেন, ‘নাজমুল স্যার আমাকে হোয়াটসএ্যাপে ওয়ারেন্টের কপি পাঠিয়েছেন এবং বলেছেন, এ বিষয়ে শাওন সহযোগিতা করবে। এখন তিনি জানেন না বললে হবে নাকি?’ ‘শাওন’ নামের ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি জানান, থানার সামনের ‘পাঠান কম্পিউটারের’ মালিক শাওন পাঠান। ‎কিন্তু, আপনি আসামি ধরে ছেড়ে দিলেন কেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি ওসি স্যারকে জানিয়েছি। সাখাওয়াতকে ধরার পর। তখন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় ওসি ফোন দিয়ে ছেড়ে দিতে বলেছেন। আমি দুই হাজার টাকা পেয়েছি। অবশিষ্ট টাকার কথা বলতে পারবেন নাজমুল স্যার।
‎এদিকে, এএসআই নাজমুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। ‎এর কয়েকদিন আগে ভুক্তভোগী আজমিরি বেগম স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। এর আগে ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে এএসআই নাজমুল ও আরিফ আজমিরিকে স্বামীর বাড়ি থেকে উদ্ধার করে বাপের বাড়ি পৌঁছে দেন। এ বিষয়টি স্বীকার করেছেন এএসআই আরিফ। ‎উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামে মামলার বাদী আজমিরি ও তার মায়ের সঙ্গে কথা হয়। তারা বলেন, আমাদের মামলার ওয়ারেন্ট হয়েছে, পুলিশ আসামি ছেড়ে দিয়েছে! অথচ এসব বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। বিচার পাবো কীভাবে? আমরা দরিদ্র মানুষ। এসব বিষয়ে কিছুই বুঝি না। আজমিরি বলেন, আমার স্বামী আমাকে বেদম মারধর করেছে। এসময় তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখান। বলেন, নিরুপায় হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। ওয়ারেন্ট ইস্যুর পর পুলিশ এমন করলে বিচার পাবো কীভাবে।
‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, আরিফ আমাকে কল দিয়েছে রাত ১২টা ৪২ মিনিটে। থানায় ওয়ারেন্টের কপি আসেনি। আমাকে জানানোর পর বলেছি তাহলে, এখন যাওয়ার দরকার নেই। ওয়ারেন্ট এলে যাবে। কিন্তু, আসামি আটক করেছে এমন কথা আমাকে বলা হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এসপি স্যারকে লিখিতভাবে জানাবো। এসময় তিনি এএসআই আরিফকে ডেকে এনে অভিযোগের ক্রস চেক করেন এবং আসামি আটক ও এএসআই নাজমুলের সংশ্লিষ্টতার সত্যতা পান। ‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে এডিশনাল এসপি (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মুকুর চাকমা বলেন, অভিযোগ সত্য হলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews