ইরানের আলোচনার টেবিলে ফেরা বা না ফেরা নিয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা বৈঠকের পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এমন পরিস্থিতিতে ফ্লোরিডা থেকে ফেরার পর ওয়াশিংটন ডিসির কাছে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরুক বা না ফিরুক, তাতে আমার কিছু যায় আসে না (আই ডোন্ট কেয়ার)। ওরা যদি আলোচনায় না ফেরে, তাতেও আমার কোনো সমস্যা নেই।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ভালোভাবেই কার্যকর রয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প। ইরান থেকে উদ্ধার হওয়া দুই মার্কিন পাইলটের শারীরিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তাদের স্বাস্থ্য খুব ভালো অবস্থায় আছে এবং আমরা তাদের নিয়ে খুব গর্বিত।’
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন হরমুজ অবরোধে সামরিক অভিযানের জোরালো সংকেত ট্রাম্পের

চলতি মাসের শুরুর দিকে একটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। ওই ঘটনায় দুই মার্কিন ক্রু সদস্য নিখোঁজ হন। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন পাইলট, যাকে বিমান থেকে ইজেক্ট করার কিছুক্ষণ পরেই উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একজন অস্ত্র-ব্যবস্থা কর্মকর্তা, যাকে প্রায় দুই দিন পর পাহাড়ে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় দুজনই আহত হন।
এ সময় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এখনও পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান এখনও পারমাণবিক অস্ত্র চায় এবং ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে।
তিনি বলেন, ‘তারা এখনও এটা (পারমাণবিক বোমা) চায় এবং গতরাতে তারা তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশকারী বা বের হওয়া সব জাহাজ আটকানো হবে: ট্রাম্প

ট্রাম্প এর আগে বলেছেন, ‘ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে কারণ তেহরান তার পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে অনিচ্ছুক।’
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, দুই পক্ষই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘খুব কাছাকাছি’ ছিল, কিন্তু ইরানকে কঠোর শর্ত, বারবার নিয়ম বদল এবং অবরোধের মুখে পড়তে হয়েছে।