ছেলেকে ফিরে পেতে আলমগীর হোসেন মামলা করেছেন। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি যশোরের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল-১–এ মামলাটি করেন। আদালত বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন। সে অনুয়ায়ী মামলাটি এজাহার হিসেবে রেকর্ড হয়েছে। মামলায় বাঘারপাড়া উপজেলার কিসমত মাহমুদপুর গ্রামের মোকলেস মোল্যার ছেলে তরিকুল ইসলাম (৪৫) ও নাজমুল হোসেনকে (৩৫) আসামি করা হয়েছে।
৮ এপ্রিল আলমগীর হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ১৪ শতক জমির এক পাশে দুই কক্ষের একটি টিনের ঘর। ঘরের বারান্দায় দুই পাশে ইটের দেয়ালের দুটি ছোট কক্ষ। ঘরের পূর্ব পাশে ছোট একটি রান্নাঘর। আলমগীর হোসেন বলেন, তাঁর ২২ শতক জমি ছিল। এর মধ্যে ১৪ শতক ভিটাবাড়ি ও আট শতক জমিতে লিচুর বাগান। তাঁর ইঞ্জিনচালিত একটি ভ্যান ছিল। তাঁর তিন ছেলে-মেয়ে। দুই মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে সাকিব হোসেন বাঘারপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানতলা ইউনাইটেড স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। ছোট মেয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। ভ্যান চালিয়ে তিনি ছেলেমেয়ের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ চালাতেন।
আলমগীর হোসেন আরও বলেন, একই গ্রামের নাজমুল হোসেন দীর্ঘদিন বিদেশ ছিলেন। দুই বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। নাজমুল ও তাঁর বড় ভাই তরিকুল ইসলাম অস্ট্রেলিয়ার শ্রমিক পদে কিছু ভিসা পেয়েছেন বলে জানান। বেতন মাসে এক লাখ টাকা। তাঁরা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে নানাভাবে প্রলোভন দেখিয়ে ছেলে সাকিব হোসেনকে অস্ট্রেলিয়ায় কোম্পানিতে শ্রমিক পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ১৫ লাখ টাকা নেন।