জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেছেন বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প আইএমএফ পছন্দ করেনি। এবং নানা কারণে চলমান ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ কিস্তি ছাড় দিচ্ছে না আইএমএফ।

আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) সামাজিক মাধ্যমে এক পোষ্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আইএমএফের বসন্ত বৈঠকে ঋণ প্রত্যাশী বাংলাদেশ সরকার তেমন একটা পাত্তা পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে না; বরং ব্যাংক ও রাজস্ব খাত সংস্কারে সরকারের অনীহায় আইএমএফ বিরক্তি প্রকাশ করেছে। ফলে চলমান ঋণ কর্মসূচির ষষ্ঠ কিস্তি ছাড় দিচ্ছে না আইএমএফ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, বিএনপি সরকারের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী প্রকল্প ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে আইএমএফ প্রশ্ন করেছে। কোনো ধরনের সমীক্ষা বা প্রভাব মূল্যায়ন (feasibility study) ছাড়াই সরকার যে এত বড় একটা সামাজিক ব্যয় প্রকল্প হাতে নিয়েছে, আইএমএফ তা পছন্দ করেনি।

আইএমএফের আপত্তিগুলো পরিস্কার। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নের খরচ কোথা থেকে আসবে তা ফয়সালা না করেই সরকার কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথে গেছে। ৪০ লাখ পরিবারকে এই কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিকট আগামী বাজেটে ১৩০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা খাতের কোনো একক প্রকল্পে এত বড় বাজেটের নজির বাংলাদেশে নাই।

আইএমএফ সরকারকে জানিয়েছে, বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোর মূল্যায়ন ছাড়া, সেগুলোর সাথে সমন্বয় করা ছাড়া হুট করে এত বড় একটি নতুন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প গ্রহণ সুবিবেচনাপ্রসূত হয়নি। এটি সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত যা অর্থনৈতিকভাবে কতটা টেকসই হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আইএমএফ সরকারকে সতর্ক করেছে যথাযথ সমন্বয় ছাড়া এ ধরনের সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাবে না।

সোজা কথায়, কোনো ধরনের পলিসি পেপার এবং সমীক্ষা ছাড়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেটাতে মরিয়া সরকার সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতায় যেসব কার্ড বিতরণের রাজনীতিতে নেমেছে, সেগুলো কতটা টেকসই হবে আইএমএফ এই প্রশ্ন তুলেছে। কারণ রাজস্ব খাত সংস্কারে সরকার কোনো আগ্রহ দেখায় নাই; বরং রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনার অধ্যাদেশ দুটি সরকার বাতিল করে দিয়েছে।

এই প্রশ্নগুলোই যখন আমরা তুলি তখন শুনতে হয় সরকারের ‘সাফল্য’ নাকি আমাদের ‘সহ্য’ হচ্ছে না!

সংস্কারে ব্যর্থতার কারণ দেখিয়ে আইএমএফ ঋণের পরবর্তী কিস্তি স্থগিত করেছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “আইএমএফ না করেছে কি না এটা তো তারা বলতে পারবে। আমি কীভাবে উত্তর দেব?... আর এটা বুঝতে হবে বিষয়গুলো চলমান প্রক্রিয়া। এটা চলতেই থাকবে আলোচনা। ১৫ দিন পরও চলবে, চলতে থাকবে। এগুলো ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস। চলতে থাকবে। এর মধ্যে সমাধান হবে। আমাদের কাজও চলতে থাকবে।”

“চলতে থাকবে”র পেছনে আসল গল্প হচ্ছে শর্ত পূরণ না করায় তথা আর্থিক খাত সংস্কার না করায় চলমান ঋণ কর্মসূচির শেষ কিস্তি দেবে না আইএমএফ। পরবর্তীতে নতুন ঋণ চুক্তিতে গেলে শর্ত হবে আরও কঠোর।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews