তাইওয়ানের জন্য একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা ব্যয় বিল অনুমোদন করা ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন সিনেটর জন কার্টিস। কারণ ওয়াশিংটন গণতান্ত্রিক এই দ্বীপরাষ্ট্রটির ওপর তার নিজস্ব সামরিক সক্ষমতায় আরও বেশি বিনিয়োগ করার জন্য চাপ বাড়াচ্ছে।
তিনি এমন সময় এ মন্তব্য করলেন যখন চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং এর আমন্ত্রণে আগামী মাসের শুরুতে বেইজিংয়ে যাচ্ছেন তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা চেং লি-উন।
চীনের সম্ভাব্য আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নত করতে কত অর্থ ব্যয় করা হবে, তা নিয়ে তাইওয়ানের আইনপ্রণেতারা মতবিরোধে জড়িয়েছেন। চীন এই দ্বীপটিকে তার ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং এটি জোরপূর্বক দখল করার হুমকি দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-র ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি এবং সংসদ নিয়ন্ত্রণকারী দুটি বিরোধী দল গত সপ্তাহে প্রতিদ্বন্দ্বী বাজেট প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ার পর আলোচনায় বসেছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) একটি দ্বিদলীয় সিনেট প্রতিনিধিদলের তাইপে সফরের সময় রিপাবলিকান সিনেটর জন কার্টিস সাংবাদিকদের বলেন, বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেট পাস হওয়াটা আমার এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে আমার সহকর্মীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সিনেটররা তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে-র সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে, আমরা যখন বিশ্বের এই অংশে বিনিয়োগ করছি, আপনারাও যেন বিনিয়োগ করেন এবং আমরা যেন একসঙ্গেই থাকি।
লাই-এর সরকার মার্কিন অস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য ১.২৫ ট্রিলিয়ন তাইওয়ান ডলার (৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ব্যয়ের প্রস্তাব দিয়েছে, অন্যদিকে বিরোধী কুওমিনতাং দল (কেএমটি) আরও অস্ত্র ক্রয়ের সুযোগ রেখে মার্কিন অস্ত্রের জন্য ৩৮০ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলার বরাদ্দ করতে চায়।
তাইওয়ানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সমর্থক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বাড়তে থাকায়, কেএমটি-র কিছু আইনপ্রণেতা দলের প্রস্তাবিত বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি বাজেটের জন্য চাপ দিচ্ছেন, যা প্রতিরক্ষা বিষয়ে একটি অভ্যন্তরীণ বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রতিনিধিদলের অংশ ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জেন শাহিন বলেছেন, তাইওয়ানের প্রতি মার্কিন সমর্থন শক্তিশালী এবং স্থায়ী রয়েছে।”
শাহীন বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ, যার মধ্যে তাইওয়ানের চারপাশে সামরিক কার্যকলাপও রয়েছে, যা ভুল গণনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পার বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যদিও তাইওয়ান তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করতে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। দ্বীপটিতে নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প থাকলেও চীনের সঙ্গে সংঘাতে এটি অস্ত্রের দিক থেকে ব্যাপকভাবে পিছিয়ে থাকবে এবং মার্কিন অস্ত্র বিক্রির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
চলতি মাসের শুরুতে তাইওয়ানের সংসদ চারটি অস্ত্র চুক্তির জন্য মার্কিন চুক্তিতে স্বাক্ষর করার জন্য সরকারকে সবুজ সংকেত দিয়েছে, যদিও অন্যান্য অস্ত্রের জন্য অর্থায়ন এখনও অনুমোদিত হয়নি।
ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনের ঘোষিত ১১.১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র প্যাকেজের মধ্যে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে এম১০৯এ৭ সেলফ-প্রোপেল্ড হাউইটজার, জ্যাভলিন অ্যান্টি-আর্মার মিসাইল, টাউ ২বি মিসাইল এবং হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (হিমার্স)।
তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট অনুসারে, মার্কিন কংগ্রেস এই স্বশাসিত গণতন্ত্রের প্রতিরক্ষার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করা বাধ্যতামূলক করেছে।
সূত্র: এএফপি।
বিডি প্রতিদিন/কামাল