দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মতো লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি আবারও দেখা যাচ্ছে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কে এক গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে একদিকে বিদ্যুৎ নেই, অন্যদিকে মানুষের কাছে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল আসছে। বিএনপি সরকার মাত্র পাঁচ মাসে লোডশেডিংয়ের ইতিহাসের রেকর্ড ভেঙেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের লোডশেডিংয়ের কথা মানুষ জানে। তখন খাম্বা ছিল, কিন্তু বিদ্যুৎ ছিল না। একই ধরনের পরিস্থিতি আবারও দেখা যাচ্ছে।
বর্তমান জ্বালানি সংকটের জন্য সরকারের অপরিকল্পনা, দুর্নীতি ও লুটপাটকে দায়ী করেন নাহিদ। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে এবং চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বেড়েছে।
সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে তেল, গ্যাস, চাল ও সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। একই সময়ে সরকারের মন্ত্রীরা দেশের পরিস্থিতি ভালো বলে দাবি করছেন বলেও সমালোচনা করেন নাহিদ।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকার যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে, তাহলে তাদের ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হবে না।
দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের মধ্যে একটি বেসরকারি কোম্পানির হাতে দেশের তেলের নিয়ন্ত্রণ, বাজারজাত ও আমদানির দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের শিল্পকারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ীরাও স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করতে পারছেন না। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ সরকারকে ‘লাল কার্ড’ দেখাবে।
এ সময় তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে দুর্নীতি ও লুটপাটের জন্য নয়। জনগণের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও তেল-গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করতেই সরকারকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও বিচারব্যবস্থার ওপর আঘাত এসেছে। সরকারের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, এসব বিষয়ে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
তিনি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, চাঁদাবাজি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ হলে জনগণ আগামী নির্বাচনে এর জবাব দেবে।