গাজা যুদ্ধে অংশ নেয়া ইসরাইলি সেনাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সহায়তায় যুক্তরাজ্যের সরকারি অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। যুক্তরাজ্যের অর্থায়নে পরিচালিত একটি কর্মসূচি নিয়ে করা এক তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
ডেইলি সাবাহ সম্প্রতি জানিয়েছে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর অভিজাত ‘ইয়াহালোম’ প্রকৌশল ইউনিটের বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের সহায়তাকারী ইয়াহালোম ফাউন্ডেশন যুক্তরাজ্যের নিবন্ধিত দাতব্য সংস্থা ইউকে তোরেমেটের মাধ্যমে ব্রিটিশ দাতাদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করেছে। তদন্তটি বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়।
সংবাদমাধ্যমের ডিক্লাসিফাইডের পাওয়া ই-মেইলে বলা হয়েছে, ইউকে তোরেমেটের মাধ্যমে দেয়া অনুদান ‘গিফট এইড’-এর আওতায় পড়বে।, ইউকে তোরেমেটের মাধ্যমে দেয়া অনুদান ‘গিফট এইড’-এর আওতায় পড়বে। এর ফলে যোগ্য অনুদানের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকার অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ অর্থ যোগ করতে পারে। ইয়াহালোম ফাউন্ডেশন দাতাদের জানিয়েছিল, তাদের দেয়া অর্থের ‘১০০ শতাংশ’ ফাউন্ডেশনে পাঠানো হবে।
দাতাদের কাছে প্রচার করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছিল গাজা থেকে ফিরে আসা ইসরাইলি সেনাদের জন্য ৫ হাজার পাউন্ড বা ৬ হাজার ৭৪১ ডলারের ‘থেরাপিউটিক হিলিং জার্নি’। এ ছাড়া ব্যক্তিগত মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসার জন্যও অর্থ চাওয়া হয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালনকালে নিহত সেনাদের স্মরণে একটি স্মৃতিশালা নির্মাণের জন্য ফাউন্ডেশনটি আরো ১ লাখ পাউন্ড সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
ইউকে তোরেমেট নিশ্চিত করেছে, তাদের পক্ষ থেকে ইয়াহালোম ফাউন্ডেশনের সুবিধাভোগীদের মানসিক আঘাতজনিত সমস্যা বা পিটিএসডি চিকিৎসার জন্য অর্থ দেয়া হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের নজরদারিতে দেখা গেছে, অর্থ শুধু নির্ধারিত দাতব্য কাজেই ব্যবহার করা হয়েছে। ইংল্যান্ডের আইনে মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে কল্যাণ ও চিকিৎসা সহায়তার আওতায় বিবেচনা করা হয় বলেও জানিয়েছে তারা।
তবে ইয়াহালোম ফাউন্ডেশন ইউকে তোরেমেটকে ‘পার্টনার প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে যে বর্ণনা দিয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে দাতব্য সংস্থাটি। এ বিষয়ে ফাউন্ডেশনকে বর্ণনাটি সংশোধনের অনুরোধ জানাবে বলেও জানিয়েছে তারা।
ইয়াহালোম ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, তারা ইসরাইলি সামরিক বাহিনীতে ‘দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন’—এমন ব্যক্তিদের সহায়তা করে। গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ ও অবকাঠামো ধ্বংসের কর্মকাণ্ডেও ইয়াহালোম ইউনিটের ভূমিকা ছিল।
এর আগে যুক্তরাজ্যের চ্যারিটি কমিশন সতর্ক করেছিল, বিদেশি কোনো সামরিক বাহিনীতে কর্মরত সেনাকে সহায়তার জন্য ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থার অর্থ সংগ্রহ করা বেআইনি।
এদিকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ইসরাইলি বসতিগুলোতে কার্যক্রমের অভিযোগে যুক্তরাজ্যের আটটি দাতব্য সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে চ্যারিটি কমিশন। ইউকে তোরেমেট তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
গাজায় ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে বেসামরিক অবকাঠামো—হাসপাতাল, গির্জা, মসজিদ, স্কুল ও শরণার্থীশিবিরসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ রয়েছে। সেখানে ৭৬ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু।