দেশে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিক ও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর চালু আছে। অন্যদিকে বন্ধ হয়ে আছে আটটি। কয়েকটি আছে আংশিক সম্পন্ন। কয়েকটি পরিকল্পনায়। অচলগুলো সচল করা গেলে এবং পরিকল্পনার পর্যায়ে থাকা বিমানবন্দরগুলো প্রতিষ্ঠিত হলে, আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। সুফল পাবে জাতীয় অর্থনীতি এবং দেশের মানুষ। এ ক্ষেত্রে আশার আলো দেখা দিয়েছে। বছরের পর বছর অচল হয়ে পড়ে থাকা দেশের আটটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর নতুন করে চালুর মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যটন সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরকেও। এর মধ্যেই কয়েকটি বিমানবন্দরের অবকাঠামো, যাত্রী চাহিদা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। মূলত জনগণের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে বন্ধ বিমানবন্দরগুলো সচল করা হচ্ছে। স্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। বগুড়া বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সাড়ে ১০ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়ে নির্মাণ করা হবে, যাতে বড় আকারের সব বিমান ওঠানামা করতে পারে। উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরও নতুন করে প্রাণ পেতে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি লালমনিরহাট, ঈশ্বরদী, কুমিল্লা, শমশেরনগর, বাগেরহাটের খানজাহান আলী এবং পটুয়াখালী বিমানবন্দর নিয়েও সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ইতিবাচক পদক্ষেপ দেশের সার্বিক অগ্রগতি, কর্মংস্থান ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে গতি সঞ্চার করবে। তবে এ ক্ষেত্রে এটাও মনে রাখতে হবে, শুধু বিমানবন্দরের নিজস্ব আয়-ব্যয় দিয়ে এর লাভক্ষতি বিচার করলে চলবে না। একটা বিমানবন্দর ঘিরে হোটেল, পরিবহন, ব্যবসা, পর্যটনসহ নানা ধরনের যেসব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে ওঠে, তা দেশের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে লাভের পাল্লাই ভারী করে। ফলে সরকারের এ উদ্যোগ-প্রচেষ্টা সফল হোক-সেটাই কামনা।