ছবির উৎস, Getty Images
Author,
কাদির কল্লোল
Role,
বিবিসি নিউজ বাংলা
৫ ঘন্টা আগে
পড়ার সময়: ৬ মিনিট
বাংলাদেশের বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে বিতর্ক এবং এটি বাতিলের দাবি আবারও সামনে এসেছে। যদিও বিএনপি সরকার চুক্তিটি বাতিল করবে না বলেই এই সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ধারণা দিচ্ছে।
কিছু রাজনৈতিক দল ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী অনেকে এই চুক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে 'একপক্ষীয়' বা 'অসম' বলে অভিযোগ করছে এবং তারা এটি বাতিলের দাবিতে কর্মসূচিও নিয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিটি সই করে, তখনও এ নিয়ে সমালোচনা হয়।
'অত্যন্ত গোপনীয়তার' সাথে চুক্তিটি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যখন চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়েছে, তখনই কেবল বিষয়গুলো জানা গেছে। যদিও বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সংশ্লিষ্টরা গোপনীয়তার অভিযোগ অস্বীকার করছেন।
প্রশ্ন হচ্ছে, এখন নির্বাচিত বিএনপির রাজনৈতিক সরকারের অবস্থান আসলে কী হবে?
চুক্তি বিরোধীরা মনে করেন, সরকার চাইলে জাতীয় সংসদে আলোচনা-পর্যালোচনা করে চুক্তির ব্যাপারে অবস্থান নিতে পারে। এটি সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আলোচনা এবং শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর করা- এই পুরো প্রক্রিয়ায় নেতৃত্বে ছিলেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি ওই সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন।
খলিলুর রহমানকেই নির্বাচিত বিএনপি সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের পাশাপাশি রাজনীতিকদেরও কেউ কেউ বলছেন, খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করার পেছনেই একটি বার্তা রয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন গত চৌঠা মার্চ। তার উত্তর ছিল, এই চুক্তিতে প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্মতি ছিল।
তিনি বলেছিলেন, "ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন"।
তখন তা অস্বীকার করে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছিলেন, ওই চুক্তি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি।
তবে বিষয়টাতে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেও এই সরকারের অবস্থানের ইঙ্গিত রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন।
এই চুক্তি নিয়ে বিতর্ক যে চলছেই এবং অনেক প্রশ্ন উঠছে, তা বিএনপি সরকার আমলে নিচ্ছে না বলেই মনে হয়। কারণ চুক্তিটি নিয়ে সরকারে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি এবং এমনকি অনানুষ্ঠানিক কোনো আলোচনাও নেই বলে জানা গেছে।
বিএনপি সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণাই পাওয়া যায় যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সরকারের সম্পর্কের উন্নতি এবং ভূ-রাজনীতি বিবেচনায় নিয়েছেন। আর সেই বিবেচনা থেকে সরকার চুক্তিটি বাতিল করবে না।

ছবির উৎস, PM PRESS WING
ছবির ক্যাপশান,
বিএনপি সরকার সংসদে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবে- এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না
সেই সুযোগ আছে; জাতীয় সংসদে আলোচনা-পর্যালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া এবং বাতিল করা যায় বলে দাবি করছেন চুক্তিটির বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীরা।
তারা ওই দাবিই তুলেছেন।
বুধবার জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে বলেছেন, চুক্তিতেই ষাট দিনের মধ্যে তা বাতিলের কথা বলা আছে। তিনি চুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনা করা এবং তা বাতিলের দাবি জানান।
চুক্তিতে ষাট দিনের একটা প্রবেশনারি সময়ের কথা বলা আছে। এই সময়ের মধ্যে তা বাতিল করা যায়। এছাড়া কোনো দেশের সঙ্গে যে কোনো চুক্তি যে কোনো সময় বাতিল করা যায় বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন।
যদিও অতীতে বাংলাদেশের সংসদে আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার নজির তেমন নেই।
তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেই প্রক্রিয়ায় গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছিল।
তখন আন্তর্জাতিক কোনো চুক্তি জাতীয় সংসদে আলোচনা করার ব্যাপারে বিএনপি-জামায়াতসহ আলোচনায় অংশ নেওয়া দলগুলো একমত হয়েছিল।
সেই প্রসঙ্গে টেনে নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, সংসদে আলোচনা করে চুক্তি ঘিরে বিতর্ক বা প্রশ্নগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া সরকারের জন্য সহজ হত।
সরকার কি সেই সুযোগ নেবে বা জাতীয় সংসদে আলোচনা করবে? এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত নেই।
সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র বলছে, সরকারের কেউ কেউ মনে করেন, চুক্তিটি নিয়ে তাদের সরকারের উচ্চ পর্যায়ে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তাদের একজন বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, পর্যালোচনা করার বিষয়টি তিনি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে তুলে ধরবেন।
কিন্তু সরকারের আরেকটি সূত্র বলছে, প্রায় দুই দশক পর বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। আর এই সরকারের বয়স দুই মাসের কিছুটা বেশি। সেই সরকার চুক্তিটির বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করবে কেন?

ছবির উৎস, Former CA press wing
ছবির ক্যাপশান,
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ওই সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, তিনিই নতুন বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোপন চুক্তি করা হয়েছে, এমন অভিযোগ রয়েছে। কারণ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়নি।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে চুক্তি নিয়ে যখন আলোচনা চলছিল, সেই আলোচনার বিষয়ও গোপন রাখার অভিযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই চুক্তির বিষয়বস্তু প্রকাশের পর তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে, জন্ম দিয়েছে বিতর্কের।
অন্যদিকে দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ১২ই ফেব্রুয়ারি। এর মাত্র তিন দিন আগে নয়ই ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার চুক্তি সই করেছে। সেটি বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দেয়।
যদিও বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তি করার ক্ষেত্রে গোপনীয়তার অভিযোগ অস্বীকার করা হচ্ছে। কিন্তু তাদের বক্তব্য বিতর্ক থামাতে পারেনি।
আর চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি অর্থনীতিবিদ, নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীসহ বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তুলেছে।
তাদের অভিযোগ, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করা হয়নি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে 'একপক্ষীয়' ও 'অসম' চুক্তি।
এমন অভিযোগও এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে চুক্তিতে এমন সব শর্ত রাখা হয়েছে, যা বাংলাদেশের স্বাধীন-সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করবে।
কারণ চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জ্বালানি, ১৪টি বোয়িং বিমান কেনা থেকে শুরু করে গম, সয়াবিনসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাধ্যতামূলকভাবে আমদানি করতে হবে।
এতে করে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তুলনামূলক কম দামে ও কম সময়ে পণ্য আমদানি থেকে বঞ্চিত হবে বাংলাদেশ।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সিনিয়র ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বিবিসি বাংলাকে বলেছে, "বাজার অর্থনীতির নিয়ম-নীতি ভঙ্গ করে এই চুক্তি করা হয়েছে"।
চুক্তিটির ক্ষেত্রে পারস্পরিক বাণিজ্যের কথা বলা হলেও এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা হয়েছে বিশ্লেষকেরা মনে করেন।
কারণ, চুক্তি অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র যদি জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সীমান্ত বা বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেয়, তাহলে বাংলাদেশকেও তাদের সঙ্গে মিল রেখে 'পরিপূরক বিধিনিষেধ' গ্রহণ করতে হবে।
আরও যে বিষয়টি আলোচনা বা বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে, তা হলো, চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশ তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তিতে যেতে পারবে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়।
এখানে চীন-রাশিয়াকে লক্ষ্য করে এমন শর্ত আনা হয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন।
এরই মধ্যে এই ধারণার সমর্থনে উদাহরণও তৈরি হয়েছে; যেমন ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল সংকটের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে তেল আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুমতি চাইতে হয়েছে।
মূলত এই বিষয়গুলো নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে।
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের যারা ওই চুক্তি সই করার প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের মধ্যে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি চুক্তিটি স্বাক্ষরের জন্য প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলছেন। তার বক্তব্য হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র যখন তাদের ন্যাশনাল ইমারজেন্সি ঘোষণা করে দেশে দেশে বাড়তি শুল্ক আরোপ করছে, তখন সেই শুল্ক কমিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের স্বার্থ দেখার বিষয় ছিল।
শেখ বশিরউদ্দীন উল্লেখ করেন, ৩৭ শতাংশ শুল্ক দিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য টিকিয়ে রাখা যেত না। আর রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর সঙ্গে জড়িত প্রায় ১২ লাখ লোক চাকরি হারাতো।
"অহেতুক বিভ্রান্তি বা ফ্যাসাদ সৃষ্টি করার আগে এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া উচিত," বলেও বিবিসি বাংলাকে বলেন সাবেক ওই উপদেষ্টা।
তবে চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বা যুক্তি মানুষ কতটা গ্রহণ করছে, সেই প্রশ্ন থেকে যায়।

ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান,
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু হয়, তখন থেকেই প্রশ্ন-বিতর্কের সৃষ্টি হয়
বামপন্থি কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারী সংগঠন ৩০ শে এপ্রিলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছিল।
কিন্তু তাদের দাবির ব্যাপারে বিএনপি সরকারের দিক থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই, কোনো বক্তব্যও দেওয়া হয়নি।
এমন প্রেক্ষাপটে আন্দোলনকারীরা এখন সমাবেশ-মিছিল-বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়ার কথা বলছে। তারা চাইছেন, চুক্তি নিয়ে অন্তত সংসদে আলোচনা করা হোক।
অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, দেশে দেশে বাড়তি শুল্ক আরোপের চাপ দিয়ে এসব চুক্তি করার করার বিষয়কে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টই অবৈধ ঘৈাষণা করেছে। সেটিকে যুক্তি হিসেবে এনেও বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে।
তিনি এ-ও বলেন, বিএনপি সরকার আসলে রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতিটাকে দেখছে এবং বিবেচনা করছে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি। সেজন্য তারা চুক্তির বিরোধিতায় যাচ্ছে না।
তবে বিএনপি সরকার সংসদে চুক্তি নিয়ে আলোচনা করবে, এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।