নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করছে উরুগুয়ে জাতীয় ফুটবল দল। দলটির প্রধান কোচ হচ্ছেন তাদের সাবেক তারকা দিয়েগো ফোরলান। ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করবেন দেশটির কিংবদন্তি এই ফুটবলার।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এইউএফ) সভাপতি ইগনাসিও আলোনসো।

‘এইউএফের নির্বাহী কমিটি ডিয়েগোকে বেছে নিয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য আমরা ২০২২ সালেও তাঁর সঙ্গে বসেছিলাম। এখন তিনি খুবই উৎসাহী।’

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় উরুগুয়ে। ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে দলটির কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান মার্সেলো বিয়েলসা। তাঁর জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন ফোরলান।

৪৭ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি সাবেক স্ট্রাইকার তার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। এমন এক দলকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিচ্ছেন যারা বিশ্বকাপে গিয়েছিল বড় প্রত্যাশা নিয়ে কিন্তু হতাশাজনক পারফরম্যান্সে গ্রুপ পর্ব বাধাই পেরুতে পারেনি সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

আর্জেন্টিনা, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরবের পিছনে থেকে উরুগুয়ে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হয় এবং নকআউট পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়। এই ব্যর্থতার পরই বিয়েলসার যুগের সমাপ্তি ঘটে।

ফেডারেশন জানিয়েছে, ফোরলানের প্রাথমিক চুক্তি মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত চলবে। এরপর তার পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তিনি থাকবেন নাকি নতুন কোচ আসবেন। পাশাপাশি তিনি উরুগুয়ের অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ হিসেবেও কাজ চালিয়ে যাবেন।

বিশ্বকাপ নায়ক থেকে কোচ

ডিয়েগো ফোরলানের নিয়োগ বিশাল প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। তিনি উরুগুয়ের ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত। ২০১০ বিশ্বকাপে তার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ—পাঁচ গোল করে দলকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন এবং টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতেছিলেন।

ক্লাব পর্যায়ে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ভিয়ারিয়াল, অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ও ইন্টারনাসিওনালে সফল সময় কাটিয়েছেন।

সীমিত কোচিং অভিজ্ঞতা, বড় চ্যালেঞ্জ

খেলোয়াড়ি জীবন কিংবদন্তি পর্যায়ের হলেও কোচ হিসেবে অভিজ্ঞতা সীমিত ফোরলানের। তিনি শুধু পেনারোল ও সিএ এথেন্সকে পরিচালনা করেছেন, যেখানে যথাক্রমে ১১ ও ১২ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার সবচেয়ে বড় কাজ হবে দলের প্রতিযোগিতামূলক পরিচয় ফিরিয়ে আনা। বিয়েলসার অধীনে আক্রমণাত্মক খেলার ধারা মাঝে মাঝে দেখা গেলেও ধারাবাহিকতা ছিল না। আক্রমণে অদক্ষতা ও রক্ষণে ভুলের কারণে দল দ্রুত বিদায় নেয়।

উরুগুয়ের দলে অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের প্রতিভা রয়েছে। ফোরলানের লক্ষ্য হবে অভিজ্ঞদের সঙ্গে তরুণদের মিশিয়ে দলে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা।

ইতিহাস বলছে, কঠিন সময়ের পর উরুগুয়ে সবসময় শক্তভাবে ফিরে আসে। ১৯৩০ ও ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপ জয়ী, ২০১০ সালের সেমিফাইনালিস্ট এই দল এখন তাদের অন্যতম সেরা আইকনের হাতে নতুন যুগ শুরু করছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews