আজ (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৎকালীণ ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকার শিক্ষার্থীদের ওপর যে নিপীড়ন-নির্যাতন, হত্যাযজ্ঞ শুরু করে তা ছিল ইতিহাসের বর্বরতম অধ্যায়। ১৬ জুলাই রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাইদকে এবং একই সময়ে চট্টগ্রামে ওয়াসিমকে হাসিনার পুলিশ বাহিনী নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করলে, তা সারাদেশের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ-বিক্ষুব্ধ এবং প্রতিবাদমুখর করে তোলে। কোটা সংস্কার আন্দোলন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের গণঅভ্যুত্থাে পরিণত হয়। এই অভ্যুত্থান দমনে হাসিনা পুলিশ-র‌্যাবসহ রাষ্ট্রের প্রায় সব বাহিনীকে নামিয়েছিল। এসব বাহিনীর পাশাপাশি হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরাও অস্ত্র হাতে শিক্ষার্থী-জনতার উপর ঝাপিয়ে পড়ে। রাজধানীসহ সারাদেশে হাসিনার এই লেলিয়ে দেয়া বাহিনী নির্বিচারে খুন-ঝখম, নিপীড়ন-নির্যাতন শুরু করে। এই বাহিনীর বিরুদ্ধে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা প্রতিরোধের ইস্পাতকঠিন দেয়াল গড়ে তোলে। তারা মরেছে, কিন্তু দেয়াল ভাঙতে দেয়নি। দেয়ালের একজন খসে পড়লে, হাজারো জন দাঁড়িয়ে গেছে। হাসিনাবাহিনীর কোনো গুলিই সেই দেয়াল ভেদ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তাকে ছাত্র-জনতার কাছে পরাস্ত হয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জীবন বাঁচাতে তার প্রভু ভারতে পালিয়ে যেতে হয়েছে। ছাত্র-জনতার এই অভ্যুত্থান ও বিজয় পুরোবিশ^ অবাক বিস্ময়ে দেখেছে। এ অভ্যুত্থানে মূল ভূমিকা পালন করেছে জেন-জি। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে জেন-জিদের জীবন দেয়ার এমন নজির বিশে^ আর দ্বিতীয়টি নেই। তারা দেশে দেশে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুপ্রেরণা হয়ে আছে। আমরা এই নতুন প্রজন্মকে এবং হাসিনার বর্বরতার শিকার হয়ে যে ১৪০০ শিক্ষার্থী-জনতা শহীদ হয়েছে তাদেরকে শ্রদ্ধা জানাই। যে ত্রিশ হাজারের বেশি চিরতরে অন্ধ ও পঙ্গু হয়ে গেছে, তাদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করাসহ সম্মানজনক পুনর্বাসনে সরকারকে আহ্বান জানাই।


৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের নিকৃষ্ট শাসনামলে দমিয়ে রাখা জনগণের ক্ষোভ-বিক্ষোভের চূড়ান্ত প্রকাশ। এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল, ভারতের সেবাদাসী হাসিনার পতন ঘটিয়ে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষিত করা। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারসহ হাসিনা সরকারের লুটপাট ও লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করে দেশকে দেউলিয়া অবস্থা থেকে উদ্ধার করা। প্রশ্ন আসতে পারে, হাসিনাকে বিতাড়িত করে জনগণ যে নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট রচনা করেছে, তা কীভাবে রক্ষিত হচ্ছে? সাধারণ মানুষ দেখেছে, হাসিনার পতনের পরপরই জামায়াতে ইসলামী ও পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া প্রথম সারির সমন্বয়কদের নিয়ে গড়া দল এনসিপি গণঅভ্যুত্থানকে তাদের একক কৃতিত্ব হিসেবে গণ্য করছে। গণঅভ্যুত্থান যে, কোনো দল বা গোষ্ঠীর একক কোনো অংশীদারিত্ব নয়, তা স্বীকার করতে তারা কুণ্ঠাবোধ করছে। এর পেছনে বিএনপির দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের ত্যাগ-তিতীক্ষাসহ সর্বস্তরের মানুষের যে অবদান, তা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যা দুঃখজনক। তাদের এ ধরনের একপেশে প্রবণতা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই পরিলক্ষিত হয়ে আসছে। বলা হয়ে থাকে, অন্তর্বর্তী সরকারের উপর জামায়াত এবং সমন্বয়কদের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল। সে সময় জনমনে এ ধারণা বদ্ধমূল হয়, তাদের আঙ্গুলের ইশারায় সরকার পরিচালিত হচ্ছে। দেশের বৃহত্তম দল বিএনপি এক্ষেত্রে যথেষ্ট ধৈর্য্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিয়েছে। বৃহৎ দল হিসেবে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে কোনো ধরনের সংঘাতে জড়ায়নি বা বিরূপ মন্তব্য করেনি। অন্তর্বর্তী সরকার হাসিনার ভেঙে দেয়া রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠনে বেশ কিছু সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল। প্রথম পর্যায়ে সংবিধান, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন, জনপ্রশাসন এবং বিচার বিভাগবিষয়ক ৬টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, নারী, গণমাধ্যম ও শ্রমিক অধিকারবিষয়ক সংস্কার কমিশন গঠন করে। এসব সংস্কার কমিশন বিএনপিসহ ফ্যাসিবিরোধীদলগুলোর সাথে মাসের পর মাস আলাপ-আলোচনা চলে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করে সবদলের সম্মতিতে ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হয়। উল্লেখ করা প্রয়োজন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় দেড় বছরের শাসনামলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ভারতকে কোনো ক্ষেত্রে ছাড় না দিয়ে চোখে চোখ রেখে কথা বলা, দীর্ঘ সতের বছর পর বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং দেশের অবিসংবাদিত নেত্রী বিএনপি চেয়াপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুবরণ উল্লেখযোগ্য। অন্তর্বর্তী সরকারের এই দেড় বছরের মধ্যে কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাও ঘটেছে। মব কালচারসহ নির্বাচন বিলম্বিত করার পাঁয়তারা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি কথায় কথায় সংস্কারের উসিলায় নির্বাচন হবে না কিংবা যতদিন সংস্কার না হবে, ততদিন নির্বাচন হবে না বলে হুমকি দিয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যেও দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকার প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। প্রধান উপদেষ্ট ড. মুহম্মদ ইউনূসসহ বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা এই বয়ান দেয়া শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকারকে জনগণ পাঁচ বছর, দশ বছর, এমনকি আজীবন ক্ষমতায় দেখতে চায়। অবশ্য হাসিনার পতনের পরপরই সেনা প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, আঠারো মাসের মধ্যে নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচন যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে হয়, বিএনপিও এ ব্যাপারে সোচ্চার ছিল। শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরের মাথায় এ বছরের (২০২৬) ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। ইতিহাসের সেরা এ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠন করে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বলা বাহুল্য, বিএনপি এমন এক সময় দায়িত্ব গ্রহণ করে যখন দেশের অর্থনীতি বলতে কিছু নেই। একেবারে শোচনীয় অর্থনীতি নিয়ে তার যাত্রা শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকার তার দেড় বছরে হাসিনার ফোকলা করে যাওয়া অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে তো পারেইনি, উল্টো তা আরও তলানিতে নিয়ে যায়। এমন এক পরিস্থিতিতেই বিএনপি সরকারকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। ক্ষমতায় বসতে না বসতেই শুরু হয় ইরান যুদ্ধ। এই যুদ্ধ বিশ^ অর্থনীতিকে টালমাটাল করে দেয়। উন্নত দেশ থেকে শুর করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতি নড়বড়ে হয়ে পড়ে। যুদ্ধের এই ধাক্কা ভঙ্গুর অর্থনীতির বাংলাদেশে মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে পড়ে। মানুষের আয় কমে যাওয়া, বেকারত্ব বৃদ্ধি, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতিসহ জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এখনো এ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। এতে সরকারের যেমন হাত নেই, তেমনি তার হাতে আলাদীনের চেরাগও নেই যে রাতারাতি অর্থনীতিকে জৌলুসপূর্ণ করে তুলবে। বাস্তব পরিস্থিতির আলোকেই অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট ঘোষণার পরপর বলেছিলেন, দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক হতে চার বছর লাগবে। তবে সরকারের উদ্যোগ রয়েছে। নতুন সরকারের ক্ষেত্রে ‘হানিমুন পিরিয়ড’ বলে একটি কথা আছে। তবে পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে এ সরকারের ক্ষেত্রে তা পরিলক্ষিত হয়নি। প্রায় শূন্য অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে সরকার দায়িত্ব নিয়েই তা পুনরুদ্ধারে তৎপর হয়েছে। সামনে সরকারের ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্ণ হবে। এই ছয় মাসের হিসাবকে অর্থনীতির স্বাভাবিক সময়ে ক্ষমতায় আসা ছয় মাসের হিসাবের সাথে মিলিয়ে দেখা সমীচীন হবে না। এই ছয় মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভুল-ত্রুটি হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তবে খেয়াল রাখা দরকার, ছোট ছোট ভুল যাতে একত্রিত হয়ে বড় ধরনের ভুল পরিণত হয়। বলা বাহুল্য, কোনো গণতান্ত্রিক সরকারই ব্যর্থ হতে চায় না। দেশ এগিয়ে নিতে তার চেষ্টার কমতি থাকে না। বিএনপি সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে যে চেষ্টা করে যাচ্ছে, তার ফল পেতে সময় লাগবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সরকার ফ্যামিল কার্ড, কৃষক কার্ড, সুদসহ কৃষকের দশ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদের মাসিক ভাতা প্রদানের কাজ শুরু করেছে। এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চলমান। তবে এ নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকারের উচিৎ, জনগণের বর্তমান সমস্যা ও সংকটকে সহনীয় পর্যায়ে আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে জেরবার হয়ে যাওয়া জনজীবনে স্বস্তি আনতে হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সংকট দূর করতে উদ্যোগ নিতে হবে।
মনে রাখা দরকার, গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় আধিপত্যবাদেরও পতন হয়েছে। হাসিনার পতনকে ভারত কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। তার পতনের পর থেকেই সে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে। হাসিনাকে হাতে রেখে ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। এর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রও যুক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের তৎপরতার দিকে দৃষ্টি দিলেই তা বোঝা যায়। এ প্রেক্ষিতে, দেশে সরকার ও বিরোধীদলের ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই। কারণ, এখন সেই আগের আওয়ামী লীগ-বিএনপির মতো বৈরী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নেই। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলই ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী। মতদ্বৈততা থাকলেও সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক রয়েছে। আগের মতো একে অপরের মুখ না দেখাদেখির রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি নেই। সরকারের কর্মকা-ের যৌক্তিক বিরোধিতা ও সমালোচনা করার পরিবেশ বিরোধীদলের রয়েছে। সুষ্ঠু রাজনীতির সুযোগ রয়েছে। জাতীয় সংসদে কথা বলার জন্য আগের তুলনায় বিরোধীদল অনেক বেশি সময় ও সুযোগ পাচ্ছে। বিরোধীদল ও সরকারি দলের আলোচনা ও সমালোচনায় সংসদ প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। জাতীয় সংসদের প্রতি জনগণের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা কার পারফরমেন্স কেমন, তার বিচার-বিশ্লেষণ করছে। মানুষের এই আগ্রহ, উৎসাহ এবং তাদের যে প্রত্যাশার জায়গা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখার দায়িত্ব সরকার ও বিরোধীদল উভয়ের। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে নিউক্লিয়াস ধরে রাজনীতি ও দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। শুধু বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করার পুরনো বন্দোবস্ত আঁকড়ে ধরলে হবে না। নতুন বন্দোবস্তের রাজনীতি করতে হবে। মন্ত্রীদের ধরাকে সরাজ্ঞান করা বা হনুভাব পরিহার করে চলতে হবে। নিজেকে জনগণের সেবক হিসেবে গণ্য করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানে জেন-জিরা জীবন দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের পথ দেখিয়েছে, সে পথে চলতে হবে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews