ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি ক্ষমতায় যেতে পারলে দেশটির সামরিক খাতে পরিচালিত বিতর্কিত পরমাণু কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেবেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক ভিডিওবার্তায় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের কথা জানান।
ইরানের শেষ রাজা মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির জ্যেষ্ঠ সন্তান রেজা পাহলভি বর্তমানে ওয়াশিংটনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। তার এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্রতর হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে তেহরানের সংঘাতের আশঙ্কা চরমে পৌঁছেছে। বার্তায় তিনি ইরানকে একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিকামী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতার অবসানের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।
ভিডিওবার্তায় বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমর্থকদের উদ্দেশে রেজা পাহলভি বলেন যে, বর্তমান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনামলে বিশ্ববাসীর কাছে ইরানের চিত্র সন্ত্রাসবাদ ও দারিদ্র্যের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির প্রকৃত পরিচয় নয়। তিনি দাবি করেন, প্রকৃত ইরান হলো একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র, যা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে বিদ্যমান ছিল।
পাহলভি প্রতিশ্রুতি দেন যে, তার নেতৃত্বে নতুন ইরান শুরু থেকেই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে এবং মাদক পাচার ও কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান একটি স্থিতিশীল ও দায়িত্বশীল মিত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে রেজা পাহলভি এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান যে, তার শাসনামলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক করা হবে এবং ইসরায়েলকে তাৎক্ষণিকভাবে একটি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
ইরান, ইসরায়েল এবং আরব বিশ্বের মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে তিনি ‘আব্রাহাম চুক্তি’ ও ‘সাইরাস চুক্তি’র সম্প্রসারণের পক্ষে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেন। তার মতে, একটি মুক্ত ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণকারী ইরান হবে বৈশ্বিক শান্তি ও অংশীদারিত্বের অনন্য প্রতীক।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ১৬ জানুয়ারি দেশত্যাগ করেছিলেন ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি। এরপর থেকেই তার পরিবার নির্বাসনে রয়েছে।
বর্তমানে ইরানে চলমান ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রেজা পাহলভি আবারও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন এবং বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ তার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করছে। ওয়াশিংটন থেকে ভিডিওবার্তার মাধ্যমে তিনি ইরানের জনগণকে বিভিন্ন নির্দেশনা দিচ্ছেন, যা দেশটির বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সূত্র: এএফপি