রাজধানীর পল্লবীতে রামিসা নামে আট বছর বয়সি একটি শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরে তার দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে বালতিতে লুকিয়ে রাখা হয়। গতকাল সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টায় পল্লবীর সেকশন-১১, ব্লক-বি, রোড-৭-এর ৩৯ নম্বর বাসায় এ রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ ঢাকা মেডিকেল মর্গে পাঠানো হয়।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক জানান, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, একই ভবনের পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩২) শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে শিশুটির মাথা তার ঘাড় থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে যেকোনো সময়ে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সময় কেউ বাসায় ছিল না। হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে কি না, সেটি মেডিকেল পরীক্ষার পর জানা যাবে। ঘটনার ভয়াবহতায় স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা এবং মা পারভীন। তাদের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার শিয়ালদী গ্রামে।
শিশুটির বাবা বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি বাসায় ছিলাম না। আমার আরেকটা মেয়ে রয়েছে, নবম শ্রেণিতে পড়ে। ওরা বাসায় ছিল। কোন ফাঁকে আমার ছোট্ট মেয়েটা জানোয়ারের (সোহেল) বাসায় গেছে, নাকি সোহেলই ডেকে নিয়েছে জানি না। মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে আমার স্ত্রী কল করলে দ্রুত চলে আসি। এর মধ্যেই শুনি আমার মেয়ে আর নেই। আমি সোহেলের ফাঁসি চাই।’ স্থানীয়রা বলছেন, শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে বিষয়টা প্রকাশ হয়ে যাবে বলে সে শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে। এমনকি শরীর থেকে তার মাথা আলাদা করে ফেলে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ এবং শোকের জন্ম নিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ফরেনসিক ইউনিট প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। এ বিষয়ে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার বলেন, শিশুটিকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর পরই স্বপ্নাকে এবং রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেলকে আটক করা হয়। কেন বা কী কারণে সোহেল শিশুটি নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।