সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিদিনই নতুন মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি হয়। আবার ব্যক্তিগত কারণ, মতের অমিল কিংবা প্রাইভেসি বজায় রাখার প্রয়োজনেও অনেক সময় পরিচিত কাউকে ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে সরিয়ে দেন ব্যবহারকারীরা। তবে কাউকে আনফ্রেন্ড করার পর একটি প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে—যাকে সরানো হলো, তিনি কি বিষয়টি জানতে পারবেন? তার কাছে কি কোনো নোটিফিকেশন যাবে?
এর সরাসরি উত্তর হলো, ফেসবুকে কাউকে আনফ্রেন্ড করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে আলাদা করে কোনো নোটিফিকেশন পাঠানো হয় না। অর্থাৎ, ‘আপনাকে অমুক ব্যক্তি আনফ্রেন্ড করেছেন’—এ ধরনের কোনো সতর্কবার্তা তার ফোনে পৌঁছাবে না। তবে ফেসবুকের কিছু পরিবর্তন দেখে ওই ব্যক্তি বিষয়টি বুঝতে পারেন।
কাউকে আনফ্রেন্ড করার সঙ্গে সঙ্গে দুজনের মধ্যকার ফেসবুক ফ্রেন্ডশিপ সম্পর্কটি শেষ হয়ে যায়। ফলে ওই ব্যক্তি আর আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকবেন না এবং আপনিও তার ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে সরে যাবেন।
তবে আনফ্রেন্ড করার অর্থ এই নয় যে ওই ব্যক্তি আপনার প্রোফাইল সম্পূর্ণভাবে দেখতে পারবেন না। আপনার প্রাইভেসি সেটিংস এবং পোস্টের অডিয়েন্সের ওপর নির্ভর করবে তিনি কী কী দেখতে পারবেন। কোনো পোস্ট ‘পাবলিক’ করা থাকলে আনফ্রেন্ড করা ব্যক্তিও সেটি দেখতে পারেন।
কীভাবে বুঝবেন আনফ্রেন্ড করা হয়েছে
ফেসবুক সরাসরি নোটিফিকেশন না দিলেও কয়েকটি বিষয় দেখে অনুমান করা যায়। আপনার প্রোফাইলে গিয়ে আগে যদি ‘ফ্রেন্ডস’ অপশন দেখা যেত, আনফ্রেন্ড করার পর সেখানে ‘অ্যাড ফ্রেন্ড’ দেখা যেতে পারে। একইভাবে আগে দেখা যেত এমন কিছু ‘ফ্রেন্ডস-অনলি’ পোস্ট বা তথ্য আর দেখা নাও যেতে পারে।
তবে শুধু এসব পরিবর্তনের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া সব সময় সম্ভব নয়। কারণ ব্যবহারকারী নিজের প্রাইভেসি সেটিংস পরিবর্তন করলেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
পুরোনো চ্যাট কি মুছে যায়?
কাউকে আনফ্রেন্ড করলেও মেসেঞ্জারে আগে হওয়া কথোপকথন সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায় না। পুরোনো চ্যাট থেকে যেতে পারে। তাই ফেসবুকে বন্ধুত্বের সম্পর্ক শেষ হলেও আগের কথোপকথন আলাদাভাবে মুছে না দিলে তা থেকে যেতে পারে।
অর্থাৎ, আনফ্রেন্ড করলে সরাসরি কোনো নোটিফিকেশন যায় না। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের বা আপনার প্রোফাইলে কিছু পরিবর্তন দেখে বিষয়টি বুঝে ফেলতে পারেন।