মাহবুবুল হক
এখন ‘টক অব দি কান্ট্রি’ হলো তারেক জিয়ার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। দেশের ছেলে দেশে ফিরে এসেছে অথবা দেশের মানুষ দেশে ফিরে এসেছে। এসেই প্রথম যে বক্তব্য তিনি রেখেছেন তা সর্বজনীনভাবে অভিনন্দিত হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে দেশবাসী বলেছেন, একটি বড় দলের প্রধান ব্যক্তি হিসেবে ভালই তো বললেন। প্রায়োরিটি বেসিসে যে কয়েকটি সাবজেক্ট তিনি উল্লেখ করেছেন, তা’ মোটামুটি মন্দ ছিলো না। তবে ইতোমধ্যে দলগত বা ব্যক্তিগতভাবে যারা তার বক্তব্যের খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ করেছেন, তাদের মতে তিনি তার পিতার কথা কম বলেছেন। ২৪ এর বিপ্লবের পর তার দল যে ভূমিকা পালন করেছে অথবা তার দলের লোকজন ব্যাপকভাবে যে লুটপাট করেছে, চাঁদাবাজি করেছে, অথবা সামাজিক বলয়ে যেভাবে রাতারাতি আসন গেড়েছে, সেসব কথা তিনি সামনে আনেন নি। এছাড়া বিপ্লবের পর ভারত কী নির্মম আচরণ করেছে, সে সম্পর্কেও কোনো কথা বলেন নি। এমন কী পতিত সরকার ও দলের সাথে তাদের সম্পর্কের বিষযে যে সকল অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে সে সম্পর্কেও টু-শব্দ করেন নি। অনেকেরই মাথাব্যথা উপর্যুক্ত অভিযোগের বিষয়ে। অনেকে একথাও তুলেছেন যে, যে বিপ্লবীদের কারণে তিনি স্বদেশে ফিরে আসতে পেরেছেন, তাদেরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ক্ষেত্রেও কৃপণতা প্রকাশ করেছেন। তবে মহান আল্লাহ-রাসুল, এসব বিষয় উল্লেখ করে যথেষ্ট বাহবা বা মারহাবা পেয়েছেন। যে ইংল্যান্ড তার অভিবাসী হওয়ার ব্যাপক সুবিধা প্রদান করেছে, তাদের সম্পর্কেও তিনি মুখ খুলেননি। অর্থাৎ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নি।
একটা তুরুপের তাস তিনি গোপন রেখেছেন। বলেছেন, ‘আই হ্যাব আ প্ল্যান’। তিনি যদি ‘উই হ্যাব আ প্ল্যান’ বলতেন, তাহলে বিষয়টি আরও মানানসই হতো। ডেমোক্রেসিতে ‘আই’ শব্দটি কম ব্যবহৃত হয়। ‘উই’ শব্দটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। স্বাস্থ্যের কারণে সমাবেশের আশেপাশে ব্যক্তিগতভাবে আমার যাওয়া হয়নি; তবে ক্রিস্টিয়ান অথবা খৃষ্টান বন্ধুগণ কিছতা যে মনোব্যথা পেয়েছেন তা স্পষ্ট। কারণ সেদিন ছিলো খৃষ্টানদের বড়দিন। খৃষ্টান বন্ধুরা এ নিয়ে আলাপ আলোচনা করছেন। কিন্তু কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেন নি। তাদের বক্তব্য ছিলো বড়দিনকে স্মরণে রেখে স্বদেশে ফিরে আসতে পারলে ভালো হতো।
বাংলাদেশে খৃষ্টানদের সংখ্যা খুব বেশি না হলেও মোটমুটি জাকজমকসহ দিবসটি উদযাপন করা হয়। বিশেষ করে মূর্তিপূজার অবকাশ না থাকায় মুসলিম দরিদ্র ও এলিট শ্রেণী খৃষ্টানদের আয়োজনে শরীক হয়। রাস্তাঘাট অনেকটা বন্ধ থাকায় যারা এ উৎসবে অংশগ্রহণ করার কথা তারা সেভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন নি। সংবাদপত্র ও মিডিয়ায় বড়দিন উদযাপনের প্রচার ও প্রসারও কম হয়েছে।
বাংলাদেশ একটি বহু ধর্মের দেশ। নির্বাচনের পূর্বে এধরনের ভুল করা সঠিক ছিলো না। বিশেষকরে বড়দিন উপলক্ষে ভ্যাটিকানের প্রধান পাদরি ফিলিস্তিন এবং মুসলিমদের সম্পর্কে উচ্চকিত ও সমুজ্জল বয়ান পেশ করেছেন। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধান একটি রাজনৈতিক দলের সর্বোচ্চ নেতা সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে পারেন নি। পাশ্চাত্যে বা সেকুলার বিশ্বে এ ধরনের একটা বড়ত্রুটি বা বার্তা চলে যাওয়া একদম ঠিক হয়নি।
সমাবেশে লক্ষ লক্ষ লোক সমাগম হয়েছে। এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে সাধারণ যে আলোচনা সঞ্চারিত হচ্ছে ,তা হলো এ বিপুল পরিমান মানুষ যারা এসেছেন তাদের সবাই বিএনপির নেতা কর্মী নন। এদের মধ্যে বেশির ভাগ রয়েছেন শহীদ জিয়ার ভক্ত ও অনুরক্ত মানুষ। রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার অনুরক্ত ও অনুসারি মানুষ। তারেক রহমানকে তারা চাক্ষুষ দেখতে এসেছে উপর্যুক্ত দু’জনের সন্তান হিসেবে। তারেক রহমান নিজে ততা জনপ্রিয় নন, যতা তার পিতা ও মাতা জনপ্রিয় ছিলেন।
এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ মানুষ সমাবেত হয়েছিলো। বিষয়টি ছিলো আন্দাজ অনুমানের বাইরে। এতে বিপুলভাবে সহায়তা ও সহযোগিতা করেছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার, সামরিক বাহিনী, আইন শংঙ্খলা বাহিনী, পতিত সরকার ও তার দলের লোকজন, সাধারণ মানুষ এবং সংবাদপত্র ও দেশি-বিদেশি মিডিয়া। পার্শ্ববর্তী দেশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তুলনাহীন সহযোগিতা যে করেছে সেটাও এখন দিবালোকের মতো পরিষ্কার।
সামরিক বাহিনী শুধু নয়। আইন-শৃংখলা বাহিনীর প্রতিটি স্তর ও বিভাগ অকল্পনীয়ভাবে সহযোগিতা করেছে। ইতোপূর্বে বাংলাদেশে কোনো একদলের শীর্ষ নেতাকে এভাবে আহলান-সাহলান করার কোনো নজির নেই। সিকিউরিটির বিষয়টা ছিলো অভাবনীয় ও অচিন্তনীয়। দেশি নেতা দূরে থাক, বিদেশী কোনো রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে এ ধরনের ওয়েলকাম করার কেনো দৃষ্টান্ত এদেশের মানুষের কাছে নেই। উপর্যুক্ত জনবলের কাছে পরোক্ষভাবে এ বার্তা পৌঁছানো হয়েছিলো যে তারেক রহমান ও তার দল আগামীতে ক্ষমতার সিংহাসনে আসন গ্রহণ করছেন। সুতরাং তারেক রহমান ও তার দলের এ বিশাল আয়োজনকে অবারিতভাবে সমুজ্জ্বল করতে হবে। তাহলে সংশ্লিষ্ট অংশ বিপুলভাবে সহযোগিতা পাবে। তাহলে এখানে যে বিষয়টি আমরা দেখছি, তা’হলো বিদেশী সেকুলার ও মুসলিম দেশগুলির বিরাট অংশ, ভারত, অন্তর্বর্তী সরকার, বাংলাদেশের সেনা ও আইনশৃংখলা বাহিনী, পতিত সরকারের ছাত্র ও নেতৃবৃন্দ এবং বাংলাদেশের সেকুলার ব্যক্তি ও মানুষ, আলেমদের একাংশ একাট্টা হয়ে গেছে। এর পেছনে আর্থিক ব্যবস্থাপনার কথা দেশে-বিদেশে আলোচিত হচ্ছে। বাংলাদেশে যে ব্যক্তির নাম সর্বাগ্রে ওঠে আসছে তিনি হলেন এস. আলম।
এ সংবর্ধনা ও সমাবেশের প্রধান নেতৃত্ব যার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে তিনি হলেন এখন এদেশের প্রধান সেকুলার নেতা সালাউদ্দিন। বিএনপিকে এখন আর তেমন কিছু করতে হচ্ছে না। বিদেশের শত শত থিংক ট্যাংক তাদেরকে সহযোগিতা করছে। এদের সম্মিলিত প্রয়াসের কারণেই তারেক রহমান তার পূর্বতন সমস্ত বদনামকে ধুয়ে-মুছে রাজার বেশে স্বদেশে প্রতাবর্তন করতে পেরেছেন।
ইতোমধ্যে অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর ও বর্তমান সরকারের অর্থ উপদেষ্টা, যিনি এক সময় বিএনপি’র ব্যক্তি বলে পরিচিত ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একটা বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে, সেখানে তিনি নাকি বলেছেন, ‘তারেক জিয়ার মতো অতীতে যারা দুর্নীতি করে মানি লন্ডারিং করে বিদেশ পালিয়ে গিয়েছিলো, এখন তারা রাজকীয়ভাবে ফিরে আসতেছে। এখন যারা দুর্নীতি করে বিদেশ পালিয়ে আছে, ভবিষ্যতে তারাও রাজকীয়ভাবে ফিরে আসবে।’ এ খবরটি সত্য কিনা আমরা জানিনা। যদি, মিথ্যা হয়ে থাকে তাইলে সরকারের উচিত ছিলো সে খবরটি যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ডিলিট করা কিন্তু এখনও সেই খবরটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলবৎ বা বিদ্যমান রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে সালাউদ্দিন আহমেদ সাহেবও এ বিষয়ে কিছু বলেছেন বলে আমাদের জানা নেই। যদি সত্যি সত্যি তিনি একথাটি বলে থাকেন, তা হলে তো তিনি একটা বড় রিস্ক নিয়েছেন। কারণ তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে যত মামলা-মোকদ্দমা ছিলো সবই ইতোমধ্যে নিঃশেষ হয়ে গেছে বলে খবরে প্রকাশিত হয়েছে। আর কোনো মামলা-মোকদ্দমা নেই বলে তারেক জিয়া দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন। খবরটি মিথ্যা হলেও সে কথাগুলির একটা বড় তাৎপর্য বিদ্যমান রয়েছে। রাজনীতি ক্ষেত্রে নাকি শেষ বলে কোনো কথা নেই।
আচ্ছা, এখন তা’হলে আমরা প্রধান একটি বিষয়ের দিকে দৃষ্টিপাত করতে পারি। সেটা হলো তিনি তার ভাষণে এবার প্রথমবারের মতো আল্লাহ-রসুলের কথা এনেছেন। আমাদের মনে পড়ছেনা ইতোপূর্বে তিনি এ ধরনের কথা জনসম্মুখে কখনও তুলে ধরেছেন। এবার তিনি সরাসরি মহান আল্লাহর সাহায্য চেয়েছেন, তার নেয়ামত ও রহমত যাঞ্চা করেছেন। একজন খাঁটি মুসলিমের মতো আন্তরিকভাবে সেকথাগুলি উচ্চারণ করেছেন। পরিষ্কার করে বলেছেন আমরা রসুল (সা:)-কে অনুসরণ করবো। একজন সেকুলার মানুষ এমন ধরনের কথা বলতে পারেন না। কিন্তু তিনি বলেছেন, আমরা সবাই জানি যে, সমাবেশে যারা সমবেত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে বেশিরভাগ ব্যক্তি তারেক জিয়ার এ উচ্চারণে আনন্দিত হয়েছেন, খুশী হয়েছেন। অনেকেই নাকি আলহামদুলিল্লাহ বলেছেন। এ নিয়ে মোটামুটি নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। কেউ কেউ বলছেন, তিনি তওবা-তিল্লাহ করে নিষ্ঠাবান মুসলিম হয়েছেন। তার কপালে সালাতের চিহ্ন জাজ্বল্যমান। ভাল মানুষ খারাপ হয়, আবার খারাপ মানুষও ভাল হয়, দীনদার হয়। যারা এসব আলোচনা করছেন তারা জিয়া পরিবারের ভক্ত। বিশেষকরে তার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার অনুরক্ত ও ভক্ত। তারা তারেক জিয়াকে কখনও খারাপ বলে ভাবেন নি। তার দুর্নীতির কথা বিশ্বাস করেননি।
তারা আশা করেছিলেন, তারেক জিয়া একদিন অন্তত পিতার মতো হবেন। সমাবেশে মহান আল্লাহ ও রাসুলের নামে তিনি যে বার্তা দিয়েছেন তাতে তারা বেজায় খুশী। তারা আশান্বিত হচ্ছেন, তারেক জিয়া যত বয়স বাড়ছে ততই তিনি উন্নত হচ্ছেন। যা, দেশ পরিচালনার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো একটি মুসলিম দেশে। তারা আরো আলোচনা করছেন শেষমেষ একটি কথা তিনি বলেছেন, ‘আই হ্যাব এ প্ল্যান’। এর কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেন নি।
‘আমার একটি প্ল্যান আছে’, কিন্তু এর ভেতরের বিষয়টি উহ্য রেখেছেন। এর সাথে সাথে তিনি একথাও বলেছেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে কাজ করবো’। এ সহজ-সরল কথটিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তার বক্তৃতার মাঝে তিনি কারো বিরুদ্ধে কথা বলেন নি। শুধু পজেটিভ কথা বলেছেন। দেশের কথা বলেছেন। মানুষের উন্নতির কথা বলেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। সবকিছু মিলে এ অংশের মানুষেরা বিশ্বাস করছেন যে, তারেক জিয়া হয়তো একটা যৌথ সরকার গঠনের চিন্তা-ভাবনা করছেন। যে দুইটি বড় দল সর্বাধিক ভোট পাবে তাদেরকে নিয়ে তিনি সরকার গঠন করবেন। বিএনপির যারা ভক্ত তারা বিপ্লবের পর থেকে ধরে রেখেছেন, যে, এবার বিএনপি সরকার গঠন করবে এবং দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ দল হবে জামায়াতে ইসলামী। তারেক জিয়া হয়তো চাচ্ছেন জামায়াত যেন বিরোধী দল গঠন করার সুযোগ না পায়। তাদেরকে যেন সরকারের অংশীদারিত্ব দেয়া যায়। তা’হলে একঢিলে দুইপাখি মারা যায়। সাবেক সরকারের আমলে এ দুটি দলই ছিলো সর্ববৃহৎ দল।
গত ১৭ বছর ধরে এ দুটি দলের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীবাহিনী ফ্যাসিবাদের সকল জুলুম অত্যাচার সহ্য করেছে। তাদের শত শত ব্যক্তি ও মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে।
তাদের সহায়-সম্পদ ধ্বংস করেছে। তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করেছে। সুতরাং এর বিনিময়ে যদি কিছু পেতে হয় তা’হলে অন্তত দু’দলেরই ক্ষমতায় যাওয়া উচিত। একথা সত্য যে, বিএনপির তুলনায় ছোট দল হলেও জামায়াতে ইসলামী সেই দলের নেতা-কর্মীরা বিএনপির তুলনায় অনেক বেশী জুলুম-নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছে। তাদেরকে অবহেলা করা ঠিক হবে না। উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। তারা যদি বিরোধী দল গঠন করার সুযোগ পায় তা’হলে বিএনপি খুব বেশী হলেও দু’বছর মাত্র টিকতে পারে। কারণ তাদের কাছে আইডিয়াল ও লজিস্টিক সাপোর্ট’ আছে অনেক বেশি। তারা অতীতের ও নিকট অতীতের বিএনপির সকল দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম শুরু করে দেবে। প্রতিবাদি মানুষ সেসব লুফে নিবে। জুলুম-নির্যাতন করে জামায়াতে ইসলামীকে কখনই ঠেকানো যাবেনা। এক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী একা থাকবে না। তাদের সাথে এনসিপিসহ অন্যান্য বিরোধী পক্ষ আনন্দ চিত্তে সামিল হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগের সহযোগিতা নিয়েও কোনো লাভ হবে না। বরং সেক্ষেত্রে বিএনপিকেও আওয়ামী লীগের ভাগ্য হয়তো বরণ করতে হবে। মিথ্যা বয়ান হলেও জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটবে। বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে। গোটা সেকুলারিজমের ওপর বিরাট আঘাত আসবে।
তার চেয়ে বরং জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে পারলে সবদিক দিয়েই সুবিধা হবে। জামায়াতে ইসলামীর নির্যাতিত-নিষ্পেষিত নেতা ও কর্মীরা খুশী হবে। একটু স্বস্তি পাবে। একটু কাজ-কর্ম করার সুযোগ পাবে। লেখাপড়াসহ দীনদারি করার সুবিধা পাবে। ১৮ বছরের সংগ্রাম আরও দীর্ঘ হোক এটা হয়তো জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও কর্মীদের সবাই চিন্তা নাও করতে পারে। সরকার গঠনের শুরু থেকেই যদি জামায়াতে ইসলামী নেতা ও কর্মীদের পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে হয় তাহলে সেটা অসম্ভব না হলেও অসুবিধা তো হবেই। এই অবস্থায় উপনীত হলে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও কর্মীরা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ ও সংগ্রামে লিপ্ত হবে।
বিএনপির এ অংশ ধরেই নিয়েছেন যে, বিএনপি এবার ক্ষমতায় যাবে। সে সূত্র ধরেই তারা এসব চিন্তা -ভাবনা করছেন। বিশেষ করে, ‘আই হ্যাব আ প্ল্যান’ থেকে তারা এইসব বার্তা তৈরী করছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীসহ দেশের মানুষ ভাবছে এবার জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় যাবে। সে ক্ষেত্রে হিসাবটা কি হবে? বিএনপি বা অন্যকোনো দল কোনোকিছু ভাবছে কিনা আমাদের জানা নেই।
তবে বিপ্লবের পর তথ্যাবিজ্ঞ মহল যেসব পরামর্শ দিয়েছিলেন তার মধ্যে একটি পরামর্শ ছিলো গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে পরপর তিনটি কোয়ালিশন সরকার গঠন করতে হবে। এতে পারস্পরিক দুশমনি কমবে, হিংসা-বিদ্বেষ কমবে, সহনশীলতা ও সহানুভূতি বাড়বে। বাড়বে সৌহার্দ্যও। এই বিবেচনায় হয়তো জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে বলা হয়েছে যে, আমরা যদি ২০০সিটও পাই তাহলেও অন্যান্য দলকে নিয়ে সরকার গঠন করবো। আল্লাহু আলেম।
লেখক : সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংগঠক।