বগুড়ায় আতিকুর রহমান মণ্ডল সাগর (৩২) নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে সদর থানার পরিদর্শক মাহফুজ আলম জানান, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়েরা তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। নিহতের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন আইনে ছয়টি মামলা রয়েছে।
এর আগে বুধবার গভীর রাতে সদর উপজেলার চালিতাবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাপলা বেগম (৫৫) নামে এক নারীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, সাগর বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের শাহাদত মণ্ডলের ছেলে। তিনি শাখারিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে চাচাতো ভাই ইসমাইল ও জুলহাসের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। সাগর স্ত্রী মারজিয়া খাতুনকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি চালিতাবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামে বসবাস করতেন।
বুধবার রাত ২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে ছিলেন এবং সাগর বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ তার চিৎকার শুনে স্ত্রী মারজিয়া খাতুন ঘর থেকে বের হয়ে আসেন। এ সময় চাচাতো ভাই জুলহাস, ইসমাইলসহ ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল টিনের গেট ভেঙে বাড়িতে ঢুকে সাগরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।
একপর্যায়ে সাগর দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী মারজিয়া খাতুন জানান, সাগরকে বাঁচাতে চিৎকার করলে দুর্বৃত্তরা তাকেও হত্যার হুমকি দেয়। গুরুতর আহত সাগরকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে দুর্বৃত্তরা ধাওয়া করে ভয়ভীতি দেখায়। পরে প্রতিবেশীর বাড়ির গলি থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
মা সাজেদা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আহতাবস্থায় সে পানির জন্য ছটফট করলেও খুনিরা তাকে একফোঁটা পানিও দেয়নি। তিনি হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সদর থানার পরিদর্শক মাহফুজ আলম জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইসমাইলের মা শাপলা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।