আবির্ভাবের দিনে, তাঁর তিরোধানের কথা। কারও কারও মনে শান্ত-সমাহিত ছায়াপাত ঘটবে, কারও মনে বিষাক্ত হুল ফুটবে। কারণ, দেশ তখন অস্থির-উন্মাতাল। এক বিস্ফোরণে সরকার পতন। দেশ অন্তর্বতী উপদেষ্টাদের হাতে। সংস্কারের নামে যেন গোটা বাংলার গলায় ফাঁস। পাকিস্তানি শাসনামলের বিরোধিতার সব ঐতিহ্য-ইতিহাস উপড়ে ফেলা–গুঁড়িয়ে দেওয়া, নির্বিচার বিপক্ষবাদীদের কারান্তরালে চালান। মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, একাত্তরকে ভোলানোর মহোৎসব! বাক্স্বাধীনতা চরমে, তবে তা যেন শুধু খুদে এক গোষ্ঠীর সম্পদ। যুক্তবাদী স্বাধীন মন অন্য কথা কইলেই ‘মব’। উগ্র-দমন। সে যে কী সরব, সক্রিয়; প্রচণ্ড আক্রোশে হিংস্র-বীভৎস; অমানবিক নির্দয় সন্ত্রাস! রাষ্ট্রযন্ত্রের কি নিয়ন্ত্রণ নেই, ভ্রুক্ষেপ নেই, নাকি অরাজকতাই আরাধ্য? সদুত্তর মেলে না, শান্তিপ্রিয় জনতা প্রতিবাদ জানায় না, নিজে বাঁচতেই ত্রস্ত। পঞ্চাশোত্তীর্ণ সুনসান বাংলা ঘিরে চরম অনিশ্চয়তার ঘোর অন্ধকার।
সৌভাগ্য। সন্জীদার তেজোদীপ্ত চেতনায় তখন ক্রমান্বয় ক্ষয়। তাঁর স্বজনেরা হতভম্ব, সন্ত্রস্ত। গুটিকয় প্রকাশ্য রক্তচক্ষুতে বাঙালির স্বাধীন দেশ অকস্মাৎ কি পিছু হটছে! উগ্রবাদী পরাধীনতার আগল যেন আবার গুপ্ত থেকে মুক্ত। সেসব শঙ্কার কথা কি বলা যায়, বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার সংগ্রামীকে?