চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা আরো দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এর ফলে কনটেইনার ও বাল্ক কার্গোবাহী জাহাজের জেটিতে অবস্থানকাল বেড়েছে। পণ্য লোডিং-আনলোডিং ও ডেলিভারির ধীরগতির কারণে জাহাজ নির্ধারিত সময়ে জেটি ছাড়তে পারছে না। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত তিন দিন ধরে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতির পর আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা চললেও আন্দোলনের কারণে অপারেশন ও দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি কর্মসূচি আরো কঠোর করার পাশাপাশি বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এ এস এম মনিরুজ্জামান, পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক এবং চিফ পারসোনাল অফিসার মোহাম্মদ নাসিরের অপসারণ দাবি করেছে। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় এসব কর্মকর্তা জড়িত।
এনসিটি দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার বিরোধিতা করে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটি, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও স্কপ। তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছে বিএনপি সমর্থিত বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের চট্টগ্রাম শাখা। সংগ্রাম কমিটির নেতারা বলেন, লাভজনক হওয়া সত্ত্বেও ব্যক্তিস্বার্থে এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং কোনো আলোচনা ছাড়াই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এদিকে নৌপরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ইজারা লাভজনক না হলে তা বিবেচনা করা হবে না। বন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, চুক্তি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিকদের কর্মবিরতি চলমান অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ১৬ জন শ্রমিক কর্মচারীকে ঢাকা আইসিডি ও নারায়ণগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনালে বদলি করেছিল। কিন্তু গতকাল সোমবার তাদের মধ্যে এক জনকে বাদ দিয়ে বাকি ১৫ জনের মধ্যে আট জনকে পায়রা বন্দর বাকি সাত জনকে মংলা বন্দরে বদলির নতুন আদেশ জারি করা হয়েছে। এটি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে করা হয়েছে বলে জানানো হয়। এই বদলির প্রতিবাদে চট্টগ্রাম স্কপের উদ্যোগে গতকাল কালো পতাকা মিছিলও করা হয়। এ পর্যন্ত যে ১৫ জনকে বদলি করেছে তাদের মধ্যে এক জন ছাড়া কেউ নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেনি বলে জানা যায়। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির জানান, তারা কেউ নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন না। এদিকে কর্মবিরতির ফলে রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি তদন্তে বন্দর কর্তৃপক্ষ ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।