মঙ্গলে অবস্থানরত নাসার মহাকাশযান ম্যাভেন-এর সঙ্গে কয়েক সপ্তাহ ধরে কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার নতুন করে যোগাযোগ ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে নাসা।
নাসা জানিয়েছে, মঙ্গল–সূর্য সংযোগকাল (যখন পৃথিবী ও মঙ্গলের মাঝখানে সূর্য অবস্থান করে) শেষ হওয়ার পর থেকেই আবার যোগাযোগের চেষ্টা শুরু হয়েছে। এই সময় সূর্যের তীব্র প্রভাবের কারণে রেডিও সংকেত দুর্বল হয়ে পড়ে অথবা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
নাসার প্রকৌশলীরা বর্তমানে দূর মহাকাশে যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ অ্যান্টেনা ব্যবস্থা ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে ম্যাভেন মহাকাশযানে নির্দেশনা পাঠাচ্ছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন ব্যাংক মানমন্দির থেকেও সংকেত প্রেরণ করা হচ্ছে।
নাসা আরও জানিয়েছে, ম্যাভেনের কাছ থেকে সর্বশেষ সংকেত পাওয়া গিয়েছিল গত ৬ ডিসেম্বর। ওইদিন একটি রেডিও পর্যবেক্ষণ অভিযান পরিচালনার সময় সামান্য কিছু তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বোঝার চেষ্টা করছেন—ঠিক কী ঘটেছিল এবং কোন কারণে মহাকাশযানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মিশন পরিচালনাকারী দল প্রতিদিনই মহাকাশযানটির সাড়া পাওয়ার আশায় সংকেত পাঠাচ্ছে। নাসার ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গল–সূর্য সংযোগকাল শেষ হওয়ার পর অনেক সময় দেরিতে সাড়া পাওয়া যায়। তবে এতদিন কোনো উত্তর না আসায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ম্যাভেন মহাকাশযানটি ২০১৪ সাল থেকে মঙ্গলের কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করছে। এর মূল কাজ হলো মঙ্গলের উপরের বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণ করা। গবেষকদের মতে, ম্যাভেনের সংগৃহীত তথ্য থেকেই জানা গেছে, দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে কীভাবে মঙ্গল গ্রহ তার অধিকাংশ বায়ুমণ্ডল হারিয়েছে এবং কীভাবে একসময় উষ্ণ পরিবেশের গ্রহ থেকে আজকের শীতল ও শুষ্ক গ্রহে রূপ নিয়েছে।
নাসা জানিয়েছে, ম্যাভেনের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়নের জন্য একটি ‘অস্বাভাবিকতা পর্যালোচনা বোর্ড’ গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ড মহাকাশযানের সম্ভাব্য যান্ত্রিক ত্রুটি বা অপ্রত্যাশিত সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখবে। যোগাযোগ পুনঃস্থাপনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিডিপ্রতিদিন/কবিরুল