দেশে নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিতকরণ এবং আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে প্রসূতি ফিস্টুলা সম্পূর্ণ নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।
রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম ক্লাবে ‘নিরাপদ মাতৃত্ব ও ফিস্টুলা দিবস’ শীর্ষক বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বিশেষজ্ঞ বক্তারা এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি) চট্টগ্রাম শাখা এ সেমিনারের আয়োজন করে। ওজিএসবি চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি এবং শেভরন ফার্টিলিটি অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জিনাত আরা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ওমর ফারুক ইউসুফ এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তাসলিম উদ্দিন।
ওজিএসবি চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং চমেক হাসপাতালের গাইনোকোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ফাহমিদা ইসলাম চৌধুরীর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি) এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার ও সার্কিস্কোপ ফার্টিলিটি সেন্টারের চিফ কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. রোকিয়া বেগম। অনুষ্ঠানে ওজিএসবির সাবেক দুই সভাপতি অধ্যাপক ডা. রওশন মোর্শেদ ও অধ্যাপক ডা. শামীমা সিদ্দিকা চিকিৎসকদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও ফিস্টুলা নির্মূলের কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা করেন। সেমিনারে বৈজ্ঞানিক অংশীদার হিসেবে সহযোগিতা করে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।
প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নিরাপদ মাতৃত্ব ও ফিস্টুলামুক্ত সমাজ গঠনে মাঠপর্যায়ে দক্ষ মিডওয়াইফ ও নার্সদের ভূমিকা অপরিসীম। আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ কেয়ারগিভার ও মিডওয়াইফ তৈরি করতে পারলে মাতৃমৃত্যুর হার যেমন কমবে, তেমনি দেশের জন্য বিশাল দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে। আমি নিজেও একজন চিকিৎসক। দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি হাসপাতালের গাইনিসহ সকল বিভাগের আধুনিক ইকুইপমেন্ট ও দীর্ঘমেয়াদি কারিগরি মান নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে রোগীরা সর্বোচ্চ আধুনিক চিকিৎসাসেবা পায়।
বিএমআরসি এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রসূতি ফিস্টুলা নির্মূল করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল ও সুযোগের সঠিক ব্যবহার করলে এটি অবশ্যই সম্ভব।
সার্কিস্কোপ ফার্টিলিটি সেন্টারের চিফ কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. রোকিয়া বেগম বলেন, ফিস্টুলা নিয়ে সমাজে প্রচলিত সামাজিক ট্যাবু ও নীরবতা ভাঙার সময় এসেছে। প্রসূতি ফিস্টুলা সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য এবং নিরাময়যোগ্য। তাই লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই নারীদের দ্রæত আধুনিক চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে এবং এ বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
ওজিএসবি চট্টগ্রাম শাখার সায়েন্টিফিক সেক্রেটারি ডা. তানজিলা করিম এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স সেক্রেটারি ডা. ফারাহ নাজ মাবুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনার শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ওজিএসবি চট্টগ্রাম শাখার যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মাফরুহা খানম (পরাগ)। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. তমিজউদ্দিন মানিক, বিশিষ্ট সার্জন ডা সানাউল্লাহ শেলী, ড্যাব নেতা ডা. আব্বাস উদ্দিন, ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, ডা. মো. ফয়েজুর রহমান প্রমুখ।
বিডি-প্রতিদিন/এআইএস