চলমান যুদ্ধের মধ্যে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ইউক্রেনের ড্রোনভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। শূন্যের নিচে তাপমাত্রায় সামনের সারিতে উড়তে গিয়ে একাধিকবার যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ছে ব্যাটারিচালিত ড্রোন।
চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসেছে। এতে ড্রোনের ব্যাটারি দ্রুত নিষ্ক্রিয় হয়ে যাচ্ছে, ক্যামেরা ও তারে বরফ জমে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে।
সামরিক প্রোটোকল মেনে কেবল কল সাইন ‘আলি’ নামে পরিচিত এক ইউক্রেনীয় সেনা বলেন, ‘ব্যাটারি দ্রুত চার্জ হারায়, ক্যামেরা ও তার জমে যায়, ড্রোন কার্যত অচল হয়ে পড়ে।’
রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়পক্ষই সস্তা ড্রোনকে যুদ্ধকৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। ছোট নজরদারি ড্রোন শত্রুর অবস্থান শনাক্ত করে, কখনো গ্রেনেড ফেলতে পারে; আবার বিস্ফোরক-বোঝাই ড্রোন সরাসরি যানবাহন বা স্থাপনায় আঘাত হানে। কিছু ড্রোন অপারেটরের সাথে সূক্ষ্ম ফাইবার-অপটিক কেবলের মাধ্যমে যুক্ত থাকে, যাতে ইলেকট্রনিক জ্যামিং এড়ানো যায়।
ইন্টারসেপ্টর ড্রোন শত্রুপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে আকাশেই ড্রোন-অন ড্রোন লড়াই চালায়। তবে কনকনে ঠান্ডায় যন্ত্রপাতি যেমন জমে যাচ্ছে, তেমনি বিপাকে পড়ছেন সেগুলো পরিচালনাকারী সেনারাও।
দক্ষিণ ফ্রন্টে ১৮তম ব্রিগেডের সদস্য নাজারি বলেন, ‘তুষারপাত, নিচু মেঘ, কুয়াশায় ড্রোন ওড়ানো কঠিন। শর্ট সার্কিট হতে পারে, মাঝ আকাশেই ভেঙে পড়তে পারে।’
উচ্চপ্রযুক্তি সরঞ্জাম সচল রাখতে কখনো পুরনো পদ্ধতির আশ্রয়ও নিতে হচ্ছে। ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফায়ার পয়েন্টের প্রধান নির্মাতা দেনিস স্তিতলিয়ারমান জানান, ড্রোনে চর্বি মাখালে তুষার থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যায়। ‘আমরা চর্বি লাগাই, তারপর ওড়ে- শুনতে হাস্যকর লাগলেও বাস্তবতা এটাই,’ বলেন তিনি।
তবে শীত ড্রোনকে কিছু ক্ষেত্রে আরো কার্যকরও করে তুলছে। বরফে ঢাকা সাদা জমিতে মানুষের বা যানবাহনের পদচিহ্ন স্পষ্ট দেখা যায়। তাপ-সংবেদনশীল ক্যামেরাযুক্ত ড্রোন শীতে মানবদেহের তাপ আরো সহজে শনাক্ত করতে পারে।
এদিকে তীব্র শীতে রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে, ফলে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ ও গরমের সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।
ফ্রন্টলাইনে আহতদের জন্যও ঠান্ডা বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে। হাইপোথারমিয়া ও তুষারদংশনে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ‘দা ভিঞ্চি উলভস’ ব্রিগেডের প্যারামেডিক নাস্তিয়া। ‘অনেক সময় আহতরা শুধু গুলিতে নয়, ঠান্ডায়ও মারা যান,’ বলেন তিনি।
তবু যুদ্ধ থামানোর উপায় নেই বলে জানান নাজারি। ‘আমরা যুদ্ধে আছি। যেকোনো আবহাওয়াতেই কাজ করতে হবে।’
সূত্র : বাসস