বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দেন নেইমার জুনিয়র। এবার আর ইঙ্গিত নয়, এক আবেঘন ঘোষণায় সেলেসাও মহাতারকা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ব্রাজিলের জার্সি গায়ে তার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক অধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে।
সান্তোসের হয়ে ইউনিভার্সিতাদ সিত্রালের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন ৩৪ বছর বয়সী নেইমার। নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের সঙ্গে আমার সময় শেষ। আমি ইতিহাস গড়েছি, আমি খুব খুশি ছিলাম। আমার রক্ত ও জীবন দিয়েছি, সবসময় হলুদ জার্সির জন্য লড়াই করেছি। তবে এখন আর আমি এটি করতে চাই না।’
ক্যারিয়ারের অন্তিম লগ্নে এসে মাঠের বাইরের নানা সমীকরণ ও সমালোচনার জবাবও দিয়েছেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় সান্তোসের কোপা সুদামেরিকানার ম্যাচের সময় একটি পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তবে মাঠে ফিরে তার চিরচেনা ক্ষুরধার মেজাজে গোল করে সেই পোকার ভঙ্গিতে সেলিব্রেশন করেন এবং কর্নার ফ্ল্যাগ দিয়ে গলফ সুইংয়ের অঙ্গভঙ্গি করে সমালোচকদের মোক্ষম জবাব দেন নেইমার।
এছাড়া শাপেকোয়েন্সের সঙ্গে ২-২ গোলের ড্রয়ের পর সতীর্থ গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও জোয়াও আনানিয়াসের সমালোচনা করার যে খবর গণমাধ্যমে ছড়ায়, তাও স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন সান্তোসের এই অধিনায়ক। তিনি অভিযোগ করেন, মিডিয়ার একটি অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছে।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে নেইমার বলেন, ‘এটি দুঃখজনক ও বিরক্তিকর, তবে এর জন্য আমি দায়ী নই। এসব গল্প অনেকের কাছেই ভুল বার্তা নিয়ে পৌঁছায়। আমি ম্যাচ শেষে কথা বলি, ভালো খেলার দাবি জানাই এবং বলি, যে আমরা এভাবে পয়েন্ট হারাতে পারি না। একজন অধিনায়ক হিসেবে আমার সেই কথা বলার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।’
২০১০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেক হয় নেইমারের। দেশের জার্সিতে ১৩০টি ম্যাচ খেলে গোল করেছেন রেকর্ড ৮০টি এবং অ্যাসিস্ট ৫৯টি। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের হারের পর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে কান্নায় ভেঙে পড়েন নেইমার। ম্যাচের শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে এক গোল শোধ দিলেও তা স্রেফ হারের ব্যবধানই কমায়। সেটিই হয়ে থাকলো ব্রাজিলের রাজপুত্রের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।