সুইজারল্যান্ড–আলজেরিয়া ম্যাচে বেশি তারকা নেই, আছে সবচেয়ে বেশি বিপদ। এক দল নিয়ন্ত্রণ আর কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে। আরেক দল গতি, আবেগ আর অপ্রত্যাশিত পারফরম্যান্সের ওপর।
ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেসে এই ম্যাচে জয়ী দল পরের পর্বে খেলবে কলম্বিয়া অথবা ঘানার বিপক্ষে। নকআউটে পুরো পৃথিবী ছোট হয়ে দাঁড়ায় ৯০ মিনিটে।
বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের পারফরম্যান্স ছিল নিঃশব্দ। গ্রুপ ‘বি’ থেকে সাত পয়েন্ট নিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে এসেছে তারা। শুরুতে কাতারের সঙ্গে ১–১ ড্র, এরপর বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ৪–১ গোলে হারানো, শেষ ম্যাচে কানাডাকে ২–১ গোলে হারিয়ে নকআউট নিশ্চিত। তিন ম্যাচে সাত গোল করেছে, হজম করেছে তিনটি।
সুইজারল্যান্ড আবেগে ভাসে না। কখন গতি কমাতে হবে, কখন প্রতিপক্ষকে বল রেখে ক্লান্ত করতে হবে এসব তারা জানে। কোচ মুরাত ইয়াকিনের দল গত কয়েক বছরে বড় টুর্নামেন্টে নিয়মিত নকআউটে উঠছে।
ম্যাচের আগে ইয়াকিন বলেছেন, দল এখন নিজেদের সীমা ভাঙতে চায় এবং নকআউটে প্রতিটি ভুলের মূল্য অনেক বড়। তার বিশ্বাস, গ্রুপ পর্বের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে দল আরও দূরে যেতে পারবে।
তারকাদের পারফরম্যান্সেও সুইসরা এগিয়ে। অধিনায়ক গ্রানিত জাকা মাঝমাঠে ছন্দ ধরে রেখেছেন। ম্যানুয়েল আকাঞ্জি নির্ভার। বড় আবিষ্কার তরুণ জোহান মানজাম্বি গ্রুপ পর্বে তিন গোল করে এই বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন। সামনে ব্রিল এম্বোলো আক্রমণে ধার যোগ করছেন।
অন্যদিকে আলজেরিয়ার পথ ছিল অনেক নাটকীয়। গ্রুপ ‘জে’ থেকে চার পয়েন্ট নিয়ে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউটে উঠেছে। শুরুতে আর্জেন্টিনার কাছে বড় ব্যবধানে হার, এরপর জর্ডানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো, আর শেষ ম্যাচে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে ৩–৩ ড্র যেখানে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে টিকে থাকে মরুভূমির শেয়ালরা। তিন ম্যাচে পাঁচ গোল করেছে, কিন্তু সাত গোলও হজম করেছে।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন ‘কান্ট্রি রোডস’ গানে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্ছ্বাস

আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ একসময় সুইজারল্যান্ডের কোচ ছিলেন। ম্যাচের আগে তিনি স্পষ্ট বলেছেন, ‘এখানে আবেগের জায়গা নেই, এটা শুধু আলজেরিয়া বনাম সুইজারল্যান্ড।’ তিনি স্বীকার করেছেন, তার দলকে রক্ষণে আরও ভালো হতে হবে, তবে আক্রমণে তারা নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাস রাখছে।
আলজেরিয়ার সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক রিয়াদ মাহরেজ। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে দুই গোল করেছেন, বিশেষ করে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স দলকে নকআউটে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে। সামনে থাকবেন আমিন গুইরি, আর সৃজনশীলতায় সাহায্য করতে পারেন ফারেস শাইবি ও ইব্রাহিম মাজা। তবে চোটের কারণে মোহাম্মদ আমোরার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে।
আগের দুই দেখায় সুইজারল্যান্ড জিতেছিল, দুটিই ছিল প্রীতি ম্যাচ। কৌশলগতভাবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হবে গতি বনাম নিয়ন্ত্রণ। সুইজারল্যান্ড চাইবে ম্যাচকে ধীর করতে, অবস্থান ধরে রাখতে, মাঝমাঠে দখল নিতে। আলজেরিয়া চাইবে ম্যাচকে দ্রুত বানাতে, রূপান্তর আক্রমণে আঘাত করতে, আর মাহরেজের মুহূর্তের জাদু ব্যবহার করতে।
ভ্যাঙ্কুভারের রাত অপেক্ষা করছে। শৃঙ্খলার দেয়াল কি টিকে থাকবে, নাকি মরুভূমির ঝড় আবারও বিশ্বকাপের মানচিত্র বদলে দেবে?