বিএনপির তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতিতে ‘নতুনত্ব’ আনার পাশাপাশি এগুলোর সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে এই নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিকে যোগ্য এবং তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে পুনর্গঠনের নির্দেশ দেন সংগঠনগুলোর এই সাংগঠনিক অভিভাবক।

বৈঠক সূত্র জানায়, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের কাছে চলমান সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় আগামী দিনে সংগঠনগুলোকে আরও সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। 

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো নিয়ে দলের ভেতর কাজ চলছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলাতে নতুনত্ব আনতে হবে। পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বে রাজনীতি বিকশিত হবে।  

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

পেশাদার খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক দলের সদস্য না হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পেশাদার খেলোয়াড়দের রাজনৈতিক দলের সদস্য না হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতা যুগান্তরকে বলেন, অনির্ধারিতভাবেই সাংগঠনিক ইস্যুতে বৈঠক করেছেন তারেক রহমান। এ সময় অঙ্গসংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন ইউনিট ও জেলা কমিটির খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি। 

বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের বিএনপি চেয়ারম্যান বলেছেন, বিগত ১৭ বছর বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনগুলো নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছে। এ সময়ে রাজনৈতিক সংকটসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে যথাসময়ে কমিটি গঠন করা যায়নি। ফলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড প্রত্যাশিত পর্যায়ে আনা যায়নি। বিগত সময়ের তুলনায় এখনকার রাজনৈতিক পরিবেশ উন্মুক্ত বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো পুনর্গঠন করার কথা বলেন। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার পরিচালনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে বিএনপি। সংসদ ও মন্ত্রিসভার দায়িত্বে যুক্ত হয়েছেন দলের মূল ও অঙ্গসংগঠনের অনেক নেতা। ফলে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাদের সময় ও মনোযোগ কমে গেছে। এর ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রম কিছুটা থমকে গেছে বলে অনেকে মনে করছেন। অবশ্য বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী অধিকাংশ সংগঠনের কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। কোথাও তিন বছর, কোথাও পাঁচ বছর, আবার কোথাও এক যুগ একই কমিটি বহাল রয়েছে। এতে সংগঠনের কার্যক্রমে কার্যত স্থবিরতা তৈরি হয়েছে এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। 

দলীয় সূত্র বলছে, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী ১১টি সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রতি তিন বছর পর নতুন কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন তা বাস্তবায়ন হয়নি। এতে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত নেতৃত্বের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যেও হতাশা বেড়েছে।

ফলে দ্রুত সময়ে যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews