বর্তমান সময়ে আমরা অনেকেই একই সঙ্গে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ট্যাবলেটে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করি। তবে একাধিক ডিভাইসে ব্যবহারের এই সুবিধা যেমন আমাদের যোগাযোগকে সহজ করেছে, তেমনি ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসির ক্ষেত্রে কিছুটা ঝুঁকিও তৈরি করেছে।
ব্যবহারকারীদের এ দুশ্চিন্তা দূর করতে হোয়াটসঅ্যাপ তাদের ‘চ্যাট লক’ ফিচারে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে।
১. লিঙ্কড ডিভাইসেও গোপন থাকবে চ্যাট
এতদিন হোয়াটসঅ্যাপের ‘চ্যাট লক’ ফিচারটি শুধুমাত্র ব্যবহারকারীর মূল স্মার্টফোনেই সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে আপনি যদি ল্যাপটপ বা অন্য কোনো ডিভাইসে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতেন, তবে সেখানে লক করা চ্যাটগুলোও উন্মুক্ত থেকে যেত।
নতুন আপডেটে এখন থেকে আপনি আপনার লিঙ্কড বা সংযুক্ত ডিভাইসগুলোতেও চ্যাট লক করে রাখতে পারবেন। একটি গোপন ‘সিক্রেট পাসকোড’ ব্যবহার করে আপনি আপনার ব্যক্তিগত আলাপচারিতাগুলো সব ডিভাইসেই নিরাপদ রাখতে পারবেন। ফলে আপনার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ আপনার মেসেজগুলো দেখতে পাবে না।
২. রিয়েল-টাইম মনিটরিং ও অ্যালার্ট সুবিধা
অনিচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলবশত কোনো ডিভাইসে হোয়াটসঅ্যাপ লগ-ইন থেকে গেলে তা প্রাইভেসির জন্য হুমকি হতে পারে। এ সমস্যা সমাধানে হোয়াটসঅ্যাপ একটি রিয়েল-টাইম মনিটরিং সিস্টেম তৈরি করছে।
আপনি যদি একই সঙ্গে ফোন এবং ল্যাপটপে (হোয়াটসঅ্যাপ ওয়েব) সক্রিয় থাকেন, তবে আপনার মূল ফোনে একটি অ্যালার্ট বা নোটিফিকেশন চলে আসবে।
এ ফিচারের মাধ্যমে আপনি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারবেন আপনার অজান্তে অন্য কেউ আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে কিনা। সন্দেহজনক কিছু দেখলে আপনি দ্রুত আপনার মূল ফোন থেকেই সেই ডিভাইসটিকে লগ-আউট করে দিতে পারবেন।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন যে পদক্ষেপ নিলে হ্যাক হবে না ফেসবুক আইডি
-68fde0e28d28e-69df59ae41825.jpg)
৩. অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন থেকে মুক্তি
নতুন এ অ্যালার্ট সিস্টেমটি শুধুমাত্র তখনই কাজ করবে যখন একাধিক ডিভাইসে একই সঙ্গে আপনার অ্যাকাউন্ট সক্রিয় থাকবে। স্বাভাবিকভাবে একটি ডিভাইস ব্যবহারের সময় এটি কোনো বাড়তি নোটিফিকেশন দিয়ে আপনাকে বিরক্ত করবে না। আপনার স্মার্টফোনটিই থাকবে সমস্ত নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ও নোটিফিকেশনের মূল কেন্দ্র।
ব্যবহারকারীদের জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
পরিবার বা অফিসের প্রয়োজনে আমাদের অনেক সময় ল্যাপটপ বা কম্পিউটার শেয়ার করতে হয়। অনেক সময় আমরা কাজ শেষে হোয়াটসঅ্যাপ লগ-আউট করতে ভুলে যাই।
হোয়াটসঅ্যাপের এ নতুন নিরাপত্তা ফিচারগুলো ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেবে এবং ব্যবহারকারীদের আরও সুরক্ষিত ও নিশ্চিন্তে যোগাযোগের অভিজ্ঞতা দেবে।