‘মাথায় কতো প্রশ্ন আসে দিচ্ছে না কেউ জবাব তার’- ছোটবেলায় পড়া এই কবিতার লাইনটা বড়বেলায় এসেও উত্তর খুঁজছে। এই মুহূর্তে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছি তার প্রথমটা আগে বলি। করোনাকাল থেকে শুরু করে সামপ্রতিক সময় পর্যন্ত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতিটা আমরা এখনো পুষিয়ে নিতে পারিনি। শিক্ষা ব্যবস্থাকে গতিশীল করতে প্রথম দরকার সমন্বিত পরিকল্পনা। যেকোনো মূল্যে ক্লাস চালু রাখা। পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। পবিত্র রমজান সহ ঈদের ছুটি মিলিয়ে ৪০ দিন পর দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে না খুলতেই দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিশেষ করে স্কুল পর্যায়ে অনলাইন, অফলাইনে শিক্ষা দানের কথা ভাবা হচ্ছে। সপ্তাহের ৩ দিন অনলাইন, ৩ দিন অফলাইনে পড়াশুনা হবে। ভালো উদ্যোগ। কিন্তু অনলাইনের ব্যাপারে আমরা কি আদৌ প্রস্তুত? শহরের স্কুলগুলো হয়তো প্রস্তুত। গ্রামের স্কুলে কি অনলাইনের পড়াশুনা সম্ভব? যারা অনলাইনে শিখাবেন সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষিকারাও কি সবাই প্রস্তুত? তারপরও যদি এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাহলে শহর আর গ্রামের মধ্যে বৈষম্য ঠেকাবে কে? এই শিক্ষাটা আমরা পাবো কীভাবে?

সরকার ডিগ্রি ক্লাস পর্যন্ত নারী শিক্ষাকে অবৈতনিক করেছে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের দেশের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা পড়াশুনা করে। কিন্তু আমরা কি গর্ব করে বলতে পারবো আমাদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এক সময় প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলা হতো। সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান এখন কোন পর্যায়ে? এব্যাপারে কি আমরা কখনো ভাবি? আমরা যারা শিক্ষিত বলে দাবি করি তারা কি আইন মানি? আইন না মানলে শিক্ষার কি মূল্য আছে?

এক্ষেত্রে যারা কম শিক্ষিত, যাদের আমরা মূর্খ বলে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করি তারাই বোধকরি কাজের কাজটা করছে। আইন মানছে। আমাদের প্রবাসী ভাইবোনদের কথা একটু বলি। যাদের আমরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা বলি তারা উচ্চশিক্ষিত নয়। অথচ অনেকে একাধিক ভাষা জানে। তারা অনেক ইংরেজিতে কথা বলায় পারদর্শী। মাতৃভাষার পাশাপাশি অনেকে একাধিক ভাষায় কথা বলা শিখেছে। চলমান জীবন বাস্তবতা তাদেরকে এক্ষেত্রে সচেতন করেছে। তাদের তুলনায় আমাদের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা গ্রাজুয়েটরা কি অগ্রসরমান? তারা কি জানে দেশের বাইরেও একটা জগৎ আছে। দেশের সীমানা পেরিয়ে অন্য দেশে পা দিলেই একটা নতুন পরিবেশ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা কি প্রস্তুত? অথচ অর্ধশিক্ষিত রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশে দেশে বেশ সাফল্যের সঙ্গে নিজেদের যোগ্যতা প্রদর্শন করছে। কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা যা শিখাচ্ছি তা কি যুগের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম? নাকি আসাদ চৌধুরীর সেই কবিতার মতো আমরা ‘ঝাঁকের কই ঝাঁকে মিশে যাচ্ছি’।

একবার ট্রাফিকের একজন ডিসিকে প্রশ্ন করেছিলাম ভাই, ট্রাফিক ব্যবস্থাকে সচল রাখার জন্য উন্নত দেশে শহরের অধিকাংশ রাস্তায় ‘ওয়ান ওয়ে’ ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু আছে। আমরা কি এমনটা করতে পারি না? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ভাই এটা সম্ভব নয়। আমাদের দেশে যারা গাড়ি চালায় অর্থাৎ ড্রাইভারদের শিক্ষার মান কম। তারা আইন বুঝে না। বুঝলেও আইন মানতে চায় না। সুযোগ পেলেই আইন ভাঙে। ট্রাফিকের ডিসি সাহেবের কথা শুনে বেশ অবাক হয়েছি। ড্রাইভাররা অর্ধশিক্ষিত। রাস্তার আইন মানতে চায় না। এই যদি হয় শিক্ষা তাহলে দেশের শহরগুলোতে কোনো দিনই ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নতি হবে না।

ব্যাংককে দেখেছি একই ওষুধে দুই ধরনের কাজ হয়। ব্যথা কমে। পাশাপাশি ভালো ঘুম হয়। এ ব্যাপারে একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম- আমাদের দেশে কি এমন ওষুধ তৈরি করা যায় না? তিনি বললেন, এমন ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি নেই। কারণ এই ধরনের ওষুধের গুণাগুণ বুঝার মতো জ্ঞান আমাদের দেশের মানুষের নেই। সেই শিক্ষাও নেই। তারা যখন জানবে এক ওষুধে দুই রোগের কাজ হয় তখন ওষুধ ভেঙে অর্ধেক করে খেতে চাইবে।

এটাই কি বাস্তবতা? আমরা কবে শিক্ষিত হবো? কতোদিন অন্যেরটা দেখে হাহাকার করবো? ওরা পারলে আমরা কেন পারি না এই প্রশ্নের জবাব কার কাছে খুঁজবো?



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews