বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, যুদ্ধাপোরাধের নামে শতাব্দির সেরা অবিচারের মাধ্যমে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করা, এর প্রতিবাদ করায় শত শত নেতাকর্মীকে আয়না ঘরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বছরের পর বছর নির্যাতনের পরও ৫৬ হাজার বর্গকিলোমিটারের দেশের ১৮ কোটি মানুষ সাক্ষী আমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করিনি।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারী) সন্ধায় খানজাহান আলী মাজার মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ১১ দলের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এর আগে তিনি খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগদেন।

ডাঃ শফিকুর রহমান আরো বলেন, ২০০১ সালে লগি-বৈঠার তান্ডব চালিয়ে মানুষগুলোকে হত্যা করা হয়েছিল, এরপর ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারী পিলখানার সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়েছিল। এরপর থেকে সকল রাজনৈতিক দল, শিশু থেকে বৃদ্ধ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষদের গত ১৫ বছর ধরে হত্যা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, সাড়ে পনেরো বছর শুধু আমরা নির্যাতিতই হইনি, আরও অনেকেই নির্যাতিত হয়েছেন। তবে এইটা সঠিক, আমরা যেভাবে নির্যাতিত হয়েছি, সেইভাবে অন্য কেউ নির্যাতিত হননি। কারো অফিসগুলা বন্ধ ছিল না পুরা সময় জুড়ে। কারো নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন অন্যায়ভাবে বাতিল করা হয়নি। কারো দলীয় প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়নি। তাদের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত কারো সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়নি। এই সবগুলা ছিল জামায়াতে ইসলামীর উপর চরম জুলুম।

বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আমরা বেকারদের ভাতা দিয়ে তাদের আপমান করতে চাই না। তাদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। তাদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি নিশ্চিত করা হবে।

ডাঃ শফিকুর বলেন, আশ্চর্যের বিষয়, একটি দল ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা করেছেন এবং এটাও বলেছেন যে, এটা মায়ের হাতে দেবে। তারা একদিকে দিচ্ছেন ফ্যামিলি কার্ড, আরেকদিকে দিচ্ছেন আবার মায়ের গায়ে হাত। এই দুইটা একসাথে চলে না। আপনি বাংলাদেশের একজন নারীকেও সম্মান করতে পারবেন না। জীবনের বিনিময়ে হলেও মায়েদের ইজ্জত রক্ষা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, অতীতে জনগণের রায়কে যারা সম্মান করে নাই, তাদের পরিণতি কি হয়েছে, তা থেকে আমাদের সকলের শিক্ষা নেওয়া উচিত। আমরা জীবন দেব, আমার মায়ের ইজ্জত দেব না। মায়ের ইজ্জতের জন্য লড়ে যাব।

তিনি বলেন, আমরা একটা অভিশাপ মুক্ত বাংলাদেশ চাই। আমার মায়ের জন্য একটা নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। শিশুদের জন্য একটা নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। রাজার ছেলে রাজা হবে এই সাংস্কৃতি আমরা পাল্টে দিতে চাই। যার যার যোগ্যতায় সে জনগনের ভোটে নির্বাচিত হবে।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওঃ রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, খুলনা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, বাগেরহাট -১ আসনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যক্ষ মাওঃ মশিউর রহমান, বাগেরহাট-২ আসনের জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মনজুরুল হক রাহাদ, বাগেরহাট-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাড. শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম প্রমুখ।

পরে তিনি নির্বাচনি ইস্তেহার ঘোষনা ও জামায়ত ইসলামীর বাগেরহাটের ৪টি আসনের মনোনীত প্রার্থীদের তিনি উপস্থিত জনসাধারনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews