বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির কারণে সড়ক-মহাসড়ক নরম ও নাজুক অবস্থায় থাকে। বৃষ্টির মধ্যে রাজধানীসহ মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল সড়ক আরও নাজুক হয়ে পড়ে। বৃষ্টিতে রাজধানীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানিবদ্ধতার মধ্যে যানবাহন চলাচল করায় সড়ক ভেঙে যানচলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এর মধ্যে বর্ষা মৌসুমের সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি তো রয়েছেই। সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, বিটিসিএল, তিতাস গ্যাস, বিদ্যুৎ বিভাগ ইত্যাদি সংস্থার উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে বর্ষা মৌসুমকেই সড়ক খোঁড়াখুড়ির সময় হিসেবে বেছে নেয়া হয়। সুদীর্ঘকাল ধরেই নগরবাসী দেখে আসছে, একই সড়ক এক সংস্থা খুঁড়ে যাওয়ার পর সেই খোঁড়া সড়কেই আরেক সংস্থা খুঁড়তে শুরু করে। তাতে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটা থেকে শুরু করে নগরবাসির চলাচলের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। গত সপ্তাহে দৈনিক নিউ এজ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্ষা মৌসুমে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রতিবেদনে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলিতে খোঁড়াখুড়ির চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে নগরবাসীর যে দুর্ভোগ, তা বর্ণনাতীত। এই দুর্ভোগ কবে শেষ হবে, তা অনিশ্চিত।

বর্ষা মৌসুমে যাতে সড়ক খোঁড়া না হয়, এজন্য নগরবিদরা বহুবার বলেছেন। এ নিয়ে পত্রপিত্রাকায়ও বহু লেখালেখি হয়েছে। তাতে যেসব প্রতিষ্ঠান সড়ক খোঁড়ে, তারা কর্ণপাত করছে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনে এবং উন্নয়নে সড়ক খুঁড়তে দোষের কিছু নেই। উন্নয়নবিরোধী কেউ নয়। তবে তাদের এই উন্নয়ন কাজ কেবল বর্ষা মৌসুম এলেই জরুরি হয়ে পড়ে, এ নিয়ে নগরবাসির মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এই কাজ শুষ্ক মৌসুমেও অনায়াসে করা যায়। এতে দুর্ভোগ কম হতো। বর্ষা মৌসুমে সড়ক খুঁড়লে, সড়কের খোঁড়া অংশ বৃষ্টির পানিতে ডুবে মরনফাঁদে পরিণত হয়। ডুবে থাকা এসব মরনফাঁদে যানবাহন পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়। পথচারিরা পড়ে মারাত্মক আহত হয়। অন্যদিকে, যেসব সড়ক খোঁড়া হয়, সেসব সড়কে যানজট লেগে থাকে। খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সড়ক সরু হয়ে যায়। পাশাপাশি খোঁড়া মাটি, বড় বড় পাইপ, বৈদুতিক সরঞ্জাম এবং খোঁড়ার যন্ত্র এক্সকেভাটর রাখার কারণে চলাচলের জায়গা থাকে না বললেই চলে। সরকার এক সময় নির্দেশনা দিয়েছিল, বর্ষা মৌসুমে যাতে সড়ক খোঁড়াখুড়ি না হয়। দুই সিটি করপোরেশনেরও সড়ক খোঁড়ার নীতিমালা রয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান সড়ক খোঁড়ে তারা এর ধার ধারছে না। তারা তাদের ইচ্ছামতো সড়ক খোঁড়ে। এমনকি, প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে যে খুঁড়বে, সেটাও করছে না। দেখা যায়, এক সংস্থা সড়ক খুঁড়ে কাজ শেষ করে যাওয়ার পর, সে জায়গা মেরামত করার পরপরই আরেক সংস্থা এসে খোঁড়া শুরু করে। এতে বারবার খোঁড়া ও মেরামত করতে গিয়ে সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় হচ্ছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে উন্নয়ন করতে গিয়ে এমন অপচয় বিশ্বের আর কোথাও দেখা যায় না। আবার একবার সড়ক খুঁড়ে গেলে তা আর সাথে সাথে মেরামত করা হয় না। দিনের পর দিন খোঁড়াবস্থায়ই পড়ে থাকে। এতে যানবাহন ও নগরবাসীর চলাচল কতটা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়, তা বলে বোঝানো যাবে না।

সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীতে সড়ক ও অলিগলিসহ প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। দেখা যায়, এসব সড়কের গুরুত্বপূর্ণ একাধিক জায়গায় খোঁড়া হলে, তাতে চলাচলের যে সংকট সৃষ্টি হয়, তা বহু জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে যেমন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, তেমনি মানুষের বিপুল কর্মঘন্টা নষ্ট হয়। শিক্ষার্থীদের চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে। এছাড়া পরিবেশ দূষণ তো রয়েছেই। নগরবিদদের মতে, সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বয় করে সড়ক খুঁড়লে এত দুর্ভোগ তৈরি হতো না। উন্নয়নের এসব কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা জরুরি। সাময়িক পরিকল্পনা দিয়ে সমাধান হবে না। সবার আগে বর্ষা মৌসুমে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করতে হবে। অন্য সময়ে সড়ক খুঁড়লেও তা সমন্বয় করে খুঁড়তে হবে, যাতে জনদুর্ভোগ ও পরিবেশ দূষণ না হয়।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews