আবুধাবি, ৩ ফেব্রুয়ারি – মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কোনো সংঘাতের প্রয়োজন নেই এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের একটি পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানো উচিত। মঙ্গলবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটের এক প্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ এমন মন্তব্য করেছেন।
দুই দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে আগামী শুক্রবার তুরস্কে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় যুদ্ধজাহাজ ইরানের দিকে এগোচ্ছে এবং কোনো চুক্তি না হলে সম্ভবত খারাপ কিছু ঘটতে পারে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত মনে করে যে এই সংকটের একটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রয়োজন। আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন যে এই অঞ্চল নানা ধ্বংসাত্মক সংঘাতের মধ্য দিয়ে গেছে তাই আরেকটি সংঘাতের প্রয়োজন নেই। তিনি চান সরাসরি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা হোক এবং তা থেকে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হোক যাতে তাদের প্রতিদিন এসব সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়।
তিনি আরও বলেন যে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে হবে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ইরান নিজের প্রয়োজনও পূরণ করবে। এটি একটি রাজনৈতিক ও বিস্তৃত ভূরাজনৈতিক চুক্তি হবে যা এই অঞ্চলের জন্য উপকারী হবে এবং ইরানের অর্থনীতিও পুনরায় ঘুরে দাঁড়াবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা দূর করতে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইস্তাম্বুলে বৈঠক করবেন। আঞ্চলিক এক কূটনীতিক জানিয়েছেন যে সৌদি আরব ও মিসরের মতো দেশের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেবেন।
ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর জড়ো হওয়ার পেছনে রয়েছে গত মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংস অভিযান যা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরানে সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ছিল। বিক্ষোভ দমনের সময় হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর করেননি ট্রাম্প তবে এরপর তিনি তেহরানের কাছে পারমাণবিক বিষয়ে ছাড় দাবি করেন এবং ইরানের উপকূলে একটি নৌবহর পাঠান। গত সপ্তাহে তিনি বলেন যে ইরান গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করছে এবং তেহরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেছেন আলোচনার জন্য প্রস্তুতি চলছে।
আঞ্চলিক বাণিজ্য ও ব্যবসার কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাত গত ডিসেম্বর থেকে আলোচনায় রয়েছে এবং ওই সময় ইয়েমেন সংক্রান্ত নানা ঘটনায় সৌদি আরবের সঙ্গে উত্তেজনা বেড়ে যায়। এরপর থেকে ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন এবং সুদানের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে নৃশংসতা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে আমিরাত। গারগাশ এসব সমালোচনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন যে বাস্তবতা থেকে এসব শব্দদূষণ আলাদা করে দেখতে হবে।
তিনি উল্লেখ করেন যে সুদান ইস্যুতে প্রতিদিন পঁয়তাল্লিশ হাজার ঘৃণামূলক পোস্ট আসছিল যা ইয়েমেন ইস্যু সামনে আসার পর হঠাৎ করেই তিন হাজারে নেমে আসে।
এনএন/ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬