শীতের শুষ্ক আবহাওয়া আর বৃষ্টির অভাবের মাঝে রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, ২৪৬ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা।
এই স্কোর পরিবেশ বিজ্ঞানের ভাষায় ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টি না থাকায় এবং ধুলিকণার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এই মেগাসিটির বায়ুদূষণ পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
আজ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, অবিশ্বাস্যভাবে ৫৫৯ স্কোর নিয়ে দূষণের শীর্ষে অবস্থান করছে ইরাকের রাজধানী বাগদাদ। ২৪৬ স্কোর নিয়ে ঢাকার সাথে যৌথভাবে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর শহর। এছাড়া চতুর্থ ও ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে ভারতের দুই শহর কলকাতা ও দিল্লি, যাদের স্কোর যথাক্রমে ২৩৪ ও ১৯১।
১৯৪ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে বায়ুদূষণ বাড়লেও ঢাকার বাতাসের মান প্রায় প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক পর্যায়ে থাকছে।
বায়ুমান সূচক বা একিউআই মানদণ্ড অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোর ‘ভালো’ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। যখন এই স্কোর ৩০১ ছাড়িয়ে যায়, তখন তাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয় যা সরাসরি বাসিন্দাদের প্রাণের ঝুঁকি তৈরি করে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ধূলিময় এই বাতাস শিশু, প্রবীণ এবং দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থ রোগীদের জন্য মারাত্মক হুমকি। এমন অবস্থায় তাদের বাড়ির বাইরে না যাওয়ার এবং অন্যদের বাইরের কাজ সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার বাতাস এখন বিষাক্ত কুয়াশার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে যা দৃশ্যমানতা কমানোর পাশাপাশি ফুসফুসের নানা সংক্রমণের কারণ হচ্ছে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য সুরক্ষা মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করছেন, নির্মাণাধীন কাজের ধুলো এবং যানবাহনের ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ঢাকার জনজীবন বড় ধরনের স্বাস্থ্য সংকটের মুখে পড়তে পারে। বৃষ্টির দেখা না পাওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা নেই বলে আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন।