হত্যা ও দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে তিনি দেশে ফিরে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে নিজের বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ অস্বীকার করে সাকিব বলেন, ‘আমি জানি, আমি কিছুই করিনি।’ সেই সাথে তিনি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামার আশাও প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলতে থাকা সাকিব বলেন, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে আদালতে হাজিরা দেয়া থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব আইনি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আমি প্রস্তুত।
তবে তার বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলাকে ‘হাস্যকর’ আখ্যা দিয়ে সাকিব দাবি করেন- মামলাটি দায়েরের দিন তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ম্যাচ খেলছিলেন। তিনি আরো জানান, এখনো এ মামলায় কোনো আইনজীবীও নিয়োগ দেননি।
বর্তমানে সাকিবের বিরুদ্ধে দুটি মামলা বিচারাধীন। একটি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা মামলা, অন্যটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দুর্নীতির মামলা।
অবশ্য ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এ সংসদ সদস্য প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। পরিবারের সাথে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রে। তার ব্যাংক হিসাবও জব্দ রয়েছে।
দেশে ফেরার বিষয়ে সাকিব জানান, তিনি দ্রুতই বাংলাদেশে ফিরতে চান। তবে সেটি সম্ভব না হলে শেখ হাসিনার সাথে ডিসেম্বরে দেশে ফেরার চেষ্টা করবেন বলেও ইঙ্গিত দেন। একইসাথে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলে দেশে ফেরার পথ সহজ হতে পারে—এমন পরামর্শও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।
এ সময় ভারতের দিল্লিতে শেখ হাসিনার সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন সাকিব। তার ভাষ্য, সেখানে তিনি কেবল বাংলাদেশের শান্তি ও উন্নতির প্রত্যাশার কথা বলেছেন, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না।
অন্যদিকে, নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়েও আশাবাদী সাবেক এই অলরাউন্ডার। ৩৯ বছর বয়সেও তিনি মনে করেন, এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সামর্থ্য রয়েছে। তাই বিদায়ী সিরিজের পাশাপাশি ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার স্বপ্নও দেখছেন।
তবে সমালোচকদের প্রশ্ন, হত্যা ও দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় জাতীয় দলে ফেরার আশা প্রকাশ কতটা বাস্তবসম্মত?
অনেকের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার আলোচনা নয়; বরং আগে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করাই সাকিবের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।