এখনকার দিনে শিশুকে শান্ত রাখতে মোবাইল হাতে তুলে দেওয়া অনেক পরিবারের কাছেই যেন সহজ সমাধান। খাওয়ানো থেকে শুরু করে ঘুম পাড়ানো - সব ক্ষেত্রেই স্ক্রিন একটি ‘লাইফ-হ্যাক’ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালে কী লুকিয়ে আছে, সেটাই এখন নতুন করে ভাবাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুর মস্তিষ্ক অত্যন্ত দ্রুত বিকশিত হয়। এই সময়টাতে ভাষা শেখা, মনোযোগ তৈরি করা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতার ভিত্তি গড়ে ওঠে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই বয়সে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে বাস্তব অভিজ্ঞতার ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা শিশুর স্বাভাবিক বিকাশে বাধা দিতে পারে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেগুলো অভিভাবকদের জানা জরুরি -

১. বাস্তব যোগাযোগ কমে যায়
শিশু যখন স্ক্রিনে ব্যস্ত থাকে, তখন তার সঙ্গে চোখে চোখ রাখা, কথা বলা বা প্রতিক্রিয়া আদান-প্রদান কমে যায়। অথচ এই যোগাযোগই ভাষা ও সামাজিক দক্ষতা গঠনের মূল ভিত্তি।

২. ভাষা শেখায় বিলম্ব হতে পারে
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ছোট শিশুদের শব্দ শেখা ও কথা বলার গতি কমিয়ে দিতে পারে। কারণ তারা বাস্তব মানুষের সঙ্গে কম কথা বলে।

৩. মনোযোগের সমস্যা তৈরি হতে পারে
দ্রুত পরিবর্তনশীল স্ক্রিন কনটেন্ট শিশুর মস্তিষ্ককে এমনভাবে অভ্যস্ত করে ফেলে, যা পরে বাস্তব জীবনের ধীরগতির কাজগুলোতে মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা তৈরি করে।

৪. ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে
ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহার করলে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ ব্যাহত হয়, ফলে শিশুর ঘুমের গুণগত মান কমে যেতে পারে।

৫. আবেগ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা
শিশু যদি বিরক্ত হলেই স্ক্রিন পায়, তাহলে সে নিজে থেকে আবেগ সামলানোর কৌশল শেখার সুযোগ পায় না।

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের পরামর্শ অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৪ মাসের কম বয়সী শিশুদের জন্য স্ক্রিন টাইম যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো। যদি দেখানো হয়ও, তবে তা যেন অভিভাবকের সঙ্গে বসে, সীমিত সময়ের জন্য এবং মানসম্মত কনটেন্ট হয়।

তাহলে কী করবেন?

শিশুকে ব্যস্ত রাখতে প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে তার সঙ্গে সময় কাটান। গল্প বলা, গান শোনানো, ব্লক দিয়ে খেলা, বাইরে হাঁটাহাঁটি - এসব কার্যক্রম শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে অনেক বেশি কার্যকর। কারণ এসবের মাধ্যমে সে স্পর্শ, শব্দ, আবেগ - সবকিছুর বাস্তব অভিজ্ঞতা পায়।

সবশেষে বলা যায়, প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অংশ - কিন্তু শিশুর জীবনের কেন্দ্র হওয়া উচিত নয়। জীবনের প্রথম দুই বছর স্ক্রিনের নয়, মানুষের এই সময়টাই তার ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়।

সূত্র: আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, হার্ভার্ড সেন্টার অন দ্য ডেভেলপিং চাইল্ড, জার্নাল অব জেএএমএ পেডিয়াট্রিকস

এএমপি/এএসএম



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews