যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপরচুনিটি অ্যাক্ট (এজিওএ) নবায়ন করেছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নবায়ন হওয়া এই চুক্তির আওতায় আফ্রিকার অনেক দেশ শুল্কমুক্তভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রফতানির সুবিধা পাবে। চুক্তিটি চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাণিজ্য সুবিধা কর্মসূচি পুনরায় অনুমোদন করেছেন। এজিওএ’র মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই ওই দিন অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর থেকেই এটা কার্যকর বলে গণ্য হবে।’
গ্রিয়ার বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর এজিওএ আমাদের বাণিজ্য অংশীদারদের কাছ থেকে আরো বেশি প্রত্যাশা করবে। একইসাথে এটি মার্কিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কৃষক ও পশুপালকদের জন্য আরো বেশি বাজার সুবিধা নিশ্চিত করবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্য ও শুল্ককে প্রণোদনা ও চাপ দু’ভাবেই ব্যবহার করে আসছেন।’
বিগত ২৫ বছর ধরে এজিওএ যুক্তরাষ্ট্র-আফ্রিকার বাণিজ্য সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর নির্বাচিত আফ্রিকার দেশগুলো থেকে শুল্কমুক্তভাবে বিলিয়ন ডলার মূল্যের গাড়ি, পোশাক ও অন্যান্য পণ্য আমদানি করেছে।
আফ্রিকার ৩২টি দেশের জন্য এই সুবিধা চালু থাকলেও গত সেপ্টেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার মানুষ কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়েন। এর ফলে অনেক বাড়তি শুল্কের বোঝা বহন করতে হয় রফতানিকারককে।
মার্কিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিশনের (ইউএসআইটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এজিওএ’র আওতায় আট দশমিক ২৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়। এর অর্ধেক আসে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে। এর মধ্যে রয়েছে প্রধানত গাড়ি, মূল্যবান ধাতু ও কৃষিপণ্য। মোট রফতানির এক-পঞ্চমাংশ আসে নাইজেরিয়া থেকে। এসবের মধ্যে ছিল তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য।
চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় ছোট দেশগুলোও চরম বিপাকে পড়েছিল। বিশেষ করে লেসোথোর বস্ত্র শিল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর প্রতিবাদে গত অক্টোবরে দেশটির রাজধানী মাসেরুতে কয়েক শ’ শ্রমিক বিক্ষোভ করেন। ২০২৪ সালে লেসোথো এই চুক্তির অধীনে ১৫০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছিল। এর আগে লেসোথো ২০২৪ সালে এই চুক্তির আওতায় ১৫ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করেছিল।
সূত্র : বাসস