মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, ‘পৌরসভার প্রকৌশলীদের টাকা না দিলে ড্রেন নির্মাণকাজ হবে না।’ এভাবে ঘোষণা দিয়ে ড্রেন নির্মাণের কথা বলে এলাকাবাসীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক চক্র। সাভার পৌর এলাকা জয়পাড়া মহল্লায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত আরসিসি ড্রেন নির্মাণে এ কাণ্ড করা হয়েছে। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এ ব্যাপারে তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয়ে ৮০০ মিটার ইউনিব্লক সড়ক এবং ৬৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪০ টাকা ব্যয়ে ৩৫০ মিটার আরসিসি ড্রেন নির্মাণকাজ চলছে। প্রায় তিন মাস আগে কাজ শুরুর সময় জয়পাড়া মহল্লার বাইতুল মামুর কেরামাতিয়া জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, ‘পৌরসভার প্রকৌশলীদের টাকা না দিলে ড্রেন নির্মাণের কাজ হবে না।’ এ বিষয়ে মসজিদের ইমাম নাজির আহমেদ বলেন, মসজিদের সেক্রেটারি খন্দকার ফরহাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ হাজি মো. শামসুদ্দিন আমাকে মাইকিং করতে বলেছিলেন। পরে আমি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিই। ঘোষণার পর খন্দকার ফরহাদ হোসেন, হাজি মো. শামসুদ্দিন, তার ছেলে মোহাম্মদ হাসান প্রিন্স এবং স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন ও মাসুমসহ কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা নেন।’ সাভার পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আলম মিয়া বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এ প্রকল্পে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। প্রকৌশলীদের নাম ব্যবহার করে কেউ টাকা সংগ্রহ করলে তা বেআইনি কাজ। অভিযুক্ত খন্দকার ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে স্থান ত্যাগ করেন। অভিযুক্ত মো. শামসুদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। হাসান প্রিন্স ও জসিম উদ্দিন টাকা সংগ্রহের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ড্রেন নির্মাণের জন্য টাকা তোলা হয়েছে। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’