টিনের ঘরের একটি কক্ষে বসে বাবার জন্য আহাজারি করছিলেন বড় মেয়ে শারমিন আক্তার। আত্মীয়স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশী তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। শারমিন বলেন, ‘আমাদের সুখে রাখার জন্য বাবা নিজের জীবনের পুরোটাই প্রবাসে কাটিয়েছেন। ছোটবেলায় বিদেশ গেছেন, শুধু কাজই করেছেন। কখনো নিজের সুখের কথা ভাবেননি। আমার সেই বাবার এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। আমার বাবার লাশ দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
শাহ আলম দুবাইয়ে যেখানে চাকরি করেন, দুই বছর আগে সেখানে তিন মাস ছিলেন তাঁর চাচাতো ভাই হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার সময় শাহ আলমের সঙ্গে থাকা সহকর্মীর সঙ্গে তিনি ফোনে কথা বলেছেন। তিনি ভাইয়ের পেছনে ছিলেন। দাঁত ব্রাশ করতে করতে কাজে যাচ্ছিলেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধ্বংসাবশেষ এসে ভাইয়ের ওপর পড়ে। মুহূর্তেই তাঁর মৃত্যু হয়।
আরেক চাচাতো ভাই ফজলুর রহমান ভূঁইয়া ওমানপ্রবাসী। একসময় ফজলুর ও শাহ আলম একসঙ্গে ওমানে ছিলেন। ছুটিতে দেশে আসা ফজলুর রহমান বলেন, ‘২৭ বছরের প্রবাসজীবন শাহ আলম ভাইয়ের। এর মধ্যে ওমানে ছিলেন আট বছরের মতো। সেখান থেকে দেশে এসে পরে দুবাই যান। দুবাইয়ে আছেন ১৮ বছর ধরে। তিনি বয়সে আমার বড় হলেও আমাদের সম্পর্কটা বন্ধুত্বের। দীর্ঘদিন বিদেশ করলেও সেভাবে সুবিধা করতে পারেনি ভাই। তিনি শুধু কাজই করে গেছেন। তাঁর ঘরবাড়ি দেখলে পরিস্থিতি বোঝা যায়। আমরা দ্রুত তাঁর লাশ দেশে আনার দাবি জানাই।’