টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি বসতঘর থেকে কনিকা আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূ ও তাঁর চার বছরের মেয়ে রাজিয়ার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধূপুরিয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত কনিকা আক্তার উপজেলার ধূপুরিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি রাজীব হোসেনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রাজীব ও কনিকার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার রাতে রাজীব হোসেন সিলেটে বেড়াতে যান। শুক্রবার সকালে কনিকা তাঁর মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে শ্বশুর নাজিমউদ্দিন ও শাশুড়ি তাঁকে বাবার বাড়িতে যেতে বাধা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তাঁকে জোর করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। বাড়িতে ফিরে কনিকা মেয়েকে নিয়ে বসতঘরে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতর থেকে শিশু রাজিয়ার চিৎকার শুনতে পান স্থানীয়রা। পরে দরজা ভেঙে কনিকাকে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং একই ঘরের মেঝেতে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে এলাকাবাসী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েকে হত্যার পর কনিকা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার নেপথ্যের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহত দু’জনের মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ইখা