আফসানা বেগম: আমার সঙ্গে যে একটা অন্যায় করা হয়েছে, পরিচিতি–অপরিচিত বহু মানুষকে সে বিষয়ে একমত হতে দেখছি। অনেকে উদ্বিগ্ন হচ্ছেন। দলবদ্ধভাবে কেউ কেউ আমার বিরুদ্ধেও লিখছেন। তাঁদের সংখ্যা নগণ্য। তাঁরা গ্রন্থকেন্দ্রের ক্রয়ের অনুমোদিত বইয়ের একটি তালিকা ফেসবুকে দিচ্ছেন। সেখানে নির্মলেন্দু গুণ, সেলিনা হোসেনসহ বিভিন্ন লেখকের বইয়ের উল্লেখ করে বলছেন, আমি নাকি বিগত স্বৈরাচারের ঘনিষ্ঠ লেখকদের বই কেনার অনুমোদন দিয়েছি।
গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালকের তো অনুমোদন দেওয়ার কোনো এখতিয়ারই নেই। বই নির্বাচন কমিটি কেবল সুপারিশ করতে পারে। সুপারিশের তালিকা অনুমোদন করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব। সচিব যেকোনো বই তালিকা থেকে বাদ দিতে পারেন, দু–একটি বই বাদও দিয়েছিলেন। যাঁদের নাম উঠছে, তাঁদের বইগুলো তিনি বাদ দিলেন না কেন? আবার কারও কারও নাম দিয়ে বলা হচ্ছে, এঁদের বই কেন নেওয়া হয়নি? যাঁরা বলছেন, তাঁরা বই নির্বাচনের নীতিমালা না পড়েই বলছেন।
নির্বাচন কমিটি কেবল প্রকাশকদের দেওয়া তালিকা থেকেই বই বাছাই করতে পারে। তার বাইরে যেতে পারেন না। কমিটির দুজন সদস্যের বই নির্বাচন করারও সমালোচনা করেছেন কেউ কেউ। দুজনই প্রতিষ্ঠিত লেখক। তাঁরা দুজনই তাঁদের বই না রাখার অনুরোধ করেছিলেন। কমিটির অন্য সদস্যরা বই রাখার পক্ষে মত দেন। কারণ, নীতিমালায় এটা নিয়ে কোনো বারণ ছিল না।
জুলাই আন্দোলনকারীদের লেখা বই না কেনার অভিযোগও করা হয়েছে। এটাও অযৌক্তিক। কারণ, বইয়ের তালিকা অনুমোদিত হয়েছিল ২০২৪ সালের শেষ দিকে। তখন পর্যন্ত জুলাই আন্দোলন নিয়ে মাত্র তিন–চারটি বই প্রকাশিত হয়েছিল। সেগুলো ওই তালিকায় ছিল। পরে এ বিষয়ে অনেক বই বেরোয়। সে রকম প্রায় ২০০টি বই নিয়ে আমরা কক্সবাজারে ‘গণ–অভ্যুত্থান স্মরণে জেলা বইমেলা’ করেছি, ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় অমর একুশে বইমেলায় এবং জুলাই মাসে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের গ্রন্থ ভবনে সপ্তাহব্যাপী বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছি। ফলে আমার বিরুদ্ধে চালানো প্রচারণাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।