কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়িতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে জামায়াত ইসলামী। একই সঙ্গে হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার মোল্লাতেঘরিয়ার জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি জানান মুফতি আমির হামজা।

এ সময় মঞ্চে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন, কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আমির হামজা বলেন, আমার গাড়ির সামনে-পেছনে পুলিশের গাড়ি ছিল। দুই গাড়িতে ১৫ থেকে ১৬ জন পুলিশ ছিল। এতকিছুর পরেও যদি একজন সংসদ সদস্যের ওপর হামলা হয়, তাহলে সাধারণ জনগণ কোথায় আছে টের পাচ্ছেন। এ জেলায় প্রশাসনে যে যার দায়িত্বে আছেন, তারা সবাই ব্যর্থ। এদের দিয়ে নিরাপত্তা পাওয়ার কোনো অবস্থা নেই। কয়েক দিন আগে আমার মেয়ের গলার চেইন ছিনতাই হয়েছে। যে দেশে এমপি ও এমপির মেয়ে নিরাপদ না, তারা পথে-ঘাটে হামলার শিকার হন, তাদের জিনিসপত্র ছিনতাই হয়। সেখানে সাধারণ মানুষ এ জেলায় কেমন আছেন?

তিনি সর্বস্তরের জনগণকে ধৈর্য ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তবে এ আহ্বানকে দুর্বলতা হিসেবে না দেখার জন্য সতর্ক করে আমির হামজা বলেন, প্রশাসন দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলে কুষ্টিয়ার শান্তিকামী জনগণ রাজপথে কঠোর জবাব দেবে।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক বলেন, হামলাটি ছিল পূর্ব পরিকল্পিত। এ হামলায় গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট দলের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছিল। ভিডিও ফুটেজে তাদের স্পষ্ট দেখা গেছে।

লিখিত বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, গণঅধিকার পরিষদের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা আমার গাড়িবহরে এক বর্বর ও অতর্কিত হামলা চালায়। আমি স্পষ্টভাবে চাই, এই হামলা কোনো আকস্মিক ঘটনা বা সাধারণ অপ্রীতিকর পরিস্থিতি ছিল না। এটি গণঅধিকার পরিষদের সন্ত্রাসীদের পূর্বপরিকল্পিত হামলা। শান্ত কুষ্টিয়াকে অশান্ত করা এবং গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি জনগণের নিরাপত্তার জন্য কাজ করছেন; কিন্তু যারা রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায় এবং প্রকাশ্যে একজন সংসদ সদস্যের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানোর সাহস দেখায়, তারা সমাজ ও কুষ্টিয়াবাসীর শত্রু।

হামলার ঘটনায় তিন দফা দাবি তুলে ধরেন সংসদ সদস্য। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে; সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আমির হামজা। তিনি বলেন, আমার গাড়ির সামনে সদর ওসির গাড়ি এবং পেছনে সেকেন্ড ওসির গাড়ি ছিল। এরপরও আমার গাড়ি ও আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। সেখানে পুলিশ সম্পূর্ণ নীরব ভূমিকা পালন করেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি একজন সংসদ সদস্য, আমারই যদি নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে আপনারা কী অবস্থায় আছেন, সেটা তো বুঝতেই পারছি।

উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার গাড়িতে হামলা চালায় গণঅধিকার পরিষদের ব্যানারে কয়েকশ মানুষ। এ ঘটনার জের ধরে জামায়াত-গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলা চালানো হয় গণঅধিকার পরিষদের অফিস এবং ওই সংগঠনের জেলা কার্যালয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews