কক্সবাজার, ১৪ এপ্রিল – কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশন চালু হওয়ার পর দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও এর বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলো এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। ২১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আইকনিক স্টেশন ভবনে একটি ৩৯ কক্ষের আধুনিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। এছাড়া ছয়তলা স্টেশন ভবনের ২ লাখ ৩৮ হাজার বর্গফুট জায়গা রেস্তোরাঁ, দোকান, অফিস এবং বিনোদন কেন্দ্রের মতো বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তবে এগুলোর কোনোটিই এখনো আলোর মুখ দেখেনি। বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্টেশনটি ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে যে আটটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের কেউই দর প্রস্তাব জমা দেয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায় দরপত্রের কিছু কঠিন শর্তের কারণে আগ্রহী ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে দর প্রস্তাব জমা দেয়া থেকে বিরত থেকেছেন। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী স্টেশনটি ১০ বছরের জন্য ইজারা দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এটি অন্তত ২০ বছরের জন্য ইজারা চাইছেন।
এর পাশাপাশি নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এককালীন ৫ কোটি টাকা এবং পারফরম্যান্স সিকিউরিটি হিসেবে আরও ১৫ কোটি টাকা জমা দেয়ার শর্ত ছিল। রেলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন মূলত এসব শর্ত নিয়েই ব্যবসায়ীরা আপত্তি তুলেছেন। বাংলাদেশ রেলওয়ে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনটি হোটেল ও ট্যুরিস্ট ম্যানেজমেন্টে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দেশী বা বিদেশী কিংবা যৌথ অংশীদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দ্রুত ইজারা দিতে আগ্রহী। শর্ত অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান স্টেশনটির রক্ষণাবেক্ষণ, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ এবং কর্মচারী ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করবে।
এর বিনিময়ে তারা স্টেশনটির নকশাকৃত ফ্লোরগুলোর স্থাপনা বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিতে পারবে। চুক্তিতে প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়ানোর শর্তও রাখা হয়েছে। রেলের কর্মকর্তারা জানান স্টেশনটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হতে পারে। তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন এই বিনিয়োগ থেকে তারা প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জন করতে পারবেন না। এই কারণে তারা চুক্তির কিছু শর্ত পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। গত ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ রেলওয়ে স্টেশন ইজারার জন্য এই দরপত্র আহ্বান করেছিল।
অত্যাধুনিক স্থাপত্য নকশায় নির্মিত এই আইকনিক স্টেশনে টিকিট কাউন্টার, রিটেল শপ, ডিপারচার ও ওয়েটিং লাউঞ্জ, নিরাপদ লকার, পর্যটন তথ্য কেন্দ্র, পণ্য প্রদর্শনী কেন্দ্র এবং প্রার্থনা কক্ষ রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিজেই এই স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ করছে। একটি স্মার্ট ও টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ভেন্ডর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি। দর প্রস্তাব দাখিলের শেষ সময় ছিল গত ৫ মার্চ। কোনো প্রতিষ্ঠান দর প্রস্তাব জমা না দেয়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ে আগের দরপত্র পর্যালোচনা করে নতুন করে তা আহ্বানের পরিকল্পনা করছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন জানান দরপত্র সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তারা একটি সভা করেছেন। সভায় ব্যবসায়ীরা দরপত্রের শর্ত নিয়ে কিছু পয়েন্ট তুলে ধরেছেন এবং লিখিত আকারে বিস্তারিত জানানোর কথা বলেছেন। রেলওয়ের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি মাথায় রেখে দরপত্রটি তৈরি করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। ব্যবসায়ীদের আপত্তির কারণে এখন দরপত্রটি পর্যালোচনা করে পুনরায় আহ্বান করা হবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় কক্সবাজার আইকনিক স্টেশনটি নির্মিত হয়েছে। ২২ দশমিক ৭২ একর জমির ওপর নির্মিত এই স্টেশনের নির্মাণকাজ ২০২৩ সালের নভেম্বরে শেষ হয় এবং সে বছরের ডিসেম্বরে এর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
এস এম/ ১৪ এপ্রিল ২০২৬